Saturday, March 22, 2014

প্রথম ট্রেনে চড়া

দু বছর, প্রায় দুমাস বয়স। মা বাবা এর আগে কখনো বাবানকে ট্রেনে চড়ায়নি। একেবারে দূরপাল্লার ট্রেনে জার্নি শুরু। শিয়ালদা- নিউ জলপাইগুড়ি পদাতিক এক্সপ্রেস। এ সি ফার্স্টক্লাস আপার বার্থ।

আমরা গ্যাংটক এসেছি আজ। কাল রাতে আমাদের ট্রেন ছিলো দশটা পঞ্চান্নয়। ট্রেনে জাস্ট রাতটা ঘুমিয়ে নিয়েই সকাল নটায় নেমে পড়া। নামলাম নটা কুড়ি নাগাদ। ট্রেন সামান্য লেট ছিলো।

বাবান কাল রাতে ট্রেনে উঠে খুব অবাক হয়েছে! চুপ করে অনেক্ষণ ভেবেছে। তারপর বললো সাদা বিছানা। ট্রেনের বেড কভার আর ব্লাঙ্কেট কভারটা ছিলো সাদা। আমাদের কো - প্যাসেঞ্জার ছিলেন একজন বয়স্ক লোক আর তাঁর স্ত্রী। তাঁরা বাবানকে দেখে খুব ভয় পেয়েছিলেন। যে আজ জার্নিটা বুঝি মাটি হলো একটুও ঘুমোতে দেবেনা। এতো ছোটো বাচ্চা কি শান্ত থাকতে পারে? বাবান সারারাত একটুও কাঁদেনি। ভালোই ঘুমিয়েছিলো। তাঁরাও নিশ্চিন্তে ঘুমিয়েছিলেন। সকালে বলেছিলেন তোমার লক্ষ্মী ছেলে। 
সকালে উঠে বাবান তাঁদের সংগে অনেক গল্পও করেছে।

নিউ জলপাইগুড়ি থেকে  গ্যাংটক আসতে বাবানের খুব কষ্ট হয়েছে। গাড়িতে উঠলেই বাবান বমি করে। প্রথম দু ঘন্টা ভালো ছিলো, উঠেই ঘুমিয়ে পড়েছিলো। শেষ দু ঘন্টায় খুব কষ্ট পেয়েছে অনেকবার বমি করে বেচারা নেতিয়ে গেছিলো। হোটেলে এসে চান করে ভাত খেয়ে চনমনে হয়েছে তারপর থেকে খুব লাফালাফি আর মজা চলছে। বাবা মা আর রুহান ব্যাপারটা ওর কাছে খুব মজার। 

No comments:

Post a Comment