বাবান এখন পড়তে শেখেনি। a,b,c,d শিখেছিলো বছর দেড়েক বয়সে। তাই যেকোনো ইংরেজি বানান দেখলে সে বানানটা বলে দিতে পারে। আমরা সেই অর্থে তাকে এখনো পড়াশুনো শেখানোর চেষ্টা করিনি। মাঝে মাঝে তার দু-চারটে ভুল শুধরে দিয়েছি মাত্র। তার অনেক বই আছে ছবি দেখে, বানানগুলো নিজে নিজে বলে ইচ্ছে হলে। আমরা গল্প পড়ে বা বলে শোনাই, সেটা শুনতে ভালোবাসে। যখন বুঝি মন দিচ্ছে না তখন বন্ধ করে দিই। তবে আইপ্যাড নিয়ে নানান জিনিস এক্সপেরিমেন্ট করতে সে খুব পছন্দ করে, সেটার সু্যোগ নিয়ে আমি একদিন গুগুলে সার্চ দেওয়া শিখিয়ে ছিলাম। এখন সেটা তার ভীষণ পছন্দের একইসঙ্গে আনন্দের কাজ হয়েছে।
তার অনেক ইংরেজি বই আছে। যেমন - ওয়াইল্ড আনিম্যালস, ভেজিটেবিলস, ভেইকেলস, নানান শেপস, ডোমেস্টিক আনিম্যালস এইসব। ছবির নিচে বানাগুলো লেখা আছে। সেই বানানগুলো দেখে দেখে বাবান গুগুলে সার্চ দেয় তারপর ইমেজেস এ গিয়ে ছবি দেখে ভীষণ আনন্দ পায়। শুধু তাই নয়, এখন যেখানে যা বানান দেখে সেটাই সার্চ দিয়ে খোঁজার চেষ্টা করে। যেমন আমার টি-শার্ট, ব্যাগ, বাবার ব্যাগ, কোনো ফেলে দেওয়া বক্স মোদ্দা কথা যা পায় তাই।
এটা করতে গিয়ে দুটো বেশ মজার ঘটনাও ঘটালো! একদিন তার জল খাওয়ার বোতোলে লিটিল'স লেখাটা দেখে সার্চ দিয়েছে, তাতে ছোটদের নানান জিনিসের ছবি পেয়েছে। প্রথমেই বললো বোতোলের ছবি আসেনি কেনো? আমার মনে হয় কিছু একটা ভুল হয়েছে! মা দেখো তো! তখন ব্যাপারটা বুঝিয়ে দিলাম। এখন তাই সে লিটিল কথাটার মানে জানে। আর একদিন আমার ফোনে স্যামসং লেখা দেখে সার্চ দিয়েছে, অনেক ফোনের ছবি এসেছে দেখে সে বেশ উতফুল্ল হয়ে লাফিয়ে উঠলো! তারপর বলতে লাগলো কোনটা বাবার ফোনের মতো দেখতে, কোনটা মায়ের। তারপরেই হঠাত খেয়াল হলো মায়ের ফোনের কভারটা তো আসেনি!! ব্যাস আবার প্রশ্ন! তোমার ফোনের কভারটা আসেনি কেনো মা? প্রথমে খুব হেসেছিলাম, তারপর বুঝিয়ে দিলাম।
No comments:
Post a Comment