Saturday, March 28, 2015

Evernote:OD

মাসখানেক আগে আমি বাবানকে গুগুলে সার্চ দেওয়া শিখিয়েছিলাম। বিভিন্ন বানান মুখস্থ না করে যাতে শিখে যেতে পারে, সেটার একটা প্রচেষ্টা মাত্র। বাবান তাতে খুব ইন্টারেস্ট পেয়েছে। ছোটো ছোটো অনেক বই এনে দিয়েছি ভেহিকেলস, আনিম্যালস এইসব। সেগুলো দেখে সার্চ দেয়। এছাড়াও যেখানে যা বানান দেখে তাই সার্চ দিয়ে ছবি খোঁজার চেষ্টা করে। এমনকি ভার্বেরও। একদিন দেখলাম ' প্লে ' সার্চ দিয়ে 'প্লে'  চিহ্ন বের করেছে, সঙ্গে 'পজ' সার্চ দিয়ে  'পজ' চিহ্নও। এইভাবে ছোটো ছোটো বানানগগুলো - জিপ, বাস, কার, পেন অনায়াসে বলতে পারে।

একটা মজার ব্যাপার  - একদিন আমি কলেজ থেকে ফেরার পর বলছে  - 'মা আমি অডি সার্চ দিয়ে বের করেছি।' আমি অবাক হয়ে বললাম - তুমি কি করে বের করলে? তোমার বইতে তো অডি বানান নেই!! সে সাবলীলভাবে তার নিজস্ব ভঙ্গিমায় হাত, মাথা নেড়ে বললো কেন? O আর D দিলাম। অডি! বললাম অডির ছবি দিয়েছে? বললো হ্যাঁ দিয়েছে তো!! আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না বলে বললাম - তুমি সার্চ দিয়ে দেখাও। দৌড়ে আইপ্যাড নিয়ে এসে গুগুল খুলে od লিখে সার্চ দিয়ে ইমেজেসে গেলো। বুদ্ধিমান সার্চইঞ্জিন গুগুল od সংক্রান্ত অনেককিছুর সঙ্গে একটা লাল অডির ছবিও দিয়ে দিলো। এটা শুনে  অনেকেই খুব হেসেছিলো, তবে বাবান এখন অডি বানান জানে। Audi লিখেই সার্চ দেয়। :-)
Evernote helps you remember everything and get organized effortlessly. Download Evernote.

Tuesday, March 3, 2015

বক - বকি

আজ দুপুরে বাবানকে পেয়ারা খাওয়ানোর সময় আমি বললাম পাখির ছানারা কি করে খায় জানো? বললো না। আমি বললাম ছানাটা হাঁ করে থাকে আর মা পাখি এসে মুখে দিয়ে দেয়।  আমি পেয়ারার একটা টুকরো ঠোঁটে চেপে ধরে ওকে দেখিয়েছিলাম, ও এসে আমার মুখ থেকে নিয়ে নিয়েছিলো। আমি বললাম পাখির ছানার খাওয়ার ছবি দেখবে?  হ্যাঁ দেখবো। বলেই আর তর সইলো না, বই দাও, বই দাও করে পাগল করে দিলো। বললাম - বাবাকে বলো পাখির বই দুটো বের করে দিতে।  দৌড়ে গেলো বাবার কাছে। মনে উত্তেজনা থাকলে বাবান এতো দ্রুত কথা বলে যে, তার কথা বোঝা একটু কঠিন হয়ে পড়ে সবার কাছে। যথারীতি, তার বাবার কাছেও তাই হলো। সে অন্য ঘর থেকে এসে আমাকে জিজ্ঞেস করলো - কি বই গো? বললাম “ পাখি আর পাখি, পাখির ছড়া “ এই দুটো। বই এনে আমাদের পাখির ছবি দেখা শুরু হলো। 

এক এক করে আমরা টিয়া, ময়না, শালিক, পায়রা সব ছবি দেখতে থাকলাম। মোরগ-মুরগি পাশাপাশি থাকায়,  আমি বোঝালাম - মোরগ মানে ছেলে, মুরগি মানে মেয়ে। দেখো মুরগির কাছে তার ছোট্ট ছানাগুলো আছে।  মুরগি ওদের মা। মোরগ বাবা। মোরগের মাথায় ঝুঁটি থাকে, মুরগির মাথায় থাকে না। এরপর এলো ময়ূর-ময়ূরী। সেটাও বোঝালাম - কার পেখম থাকে আর কার থাকে না। তারপর বাবান নিজেই পাতা উল্টে উল্টে দেখতে থাকলো। হঠাৎ দুটো বকের ছবি দেখিয়ে আমাকে ডেকে, কিছু বলার অবকাশ না দিয়েই বলে উঠলো - মা এই দেখো, এটা বক আর ওটা বকি। আমি প্রথমে দু সেকেণ্ড মতো থতমত খেয়ে গেছিলাম, তারপর ব্যাপারটা বুঝেই হো হো করে হাসতে শুরু করে ওর বাবাকে ডাকলাম। বাবা এসে শুনেও খুব হাসলো। তাতে বাবানও খুব আনন্দ পেয়েছে। ও যে মজার একটা কথা বলেছে সেটা বুঝেই,  বাবান খুশি হয়ে হেসেছিলো। 

পরে পিসিভাইকে যখন বলেছিলাম - সে শুনে বলেছিলো, ঠিকই তো। চখা যদি চখি হয়, বক তো বকিই হবে। ও ঠিকই বলেছে। 

Friday, February 27, 2015

হঠাৎ করে

বাবানের আজকাল হঠাৎ হঠাৎ অনেক কিছু ইচ্ছে করে। একদিন দুপুরবেলা চান করে বললো - দিদুন জিলিপি আছে? দিদুন বললো না, নেই। এখন তো তুমি ভাত খাবে, সাড়ে বারোটা বাজে। শুনে বললো - না আমার হঠাৎ করে খুব জিলিপি খেতে ইচ্ছে করছে। এরকম হঠাৎ করে তার বড়মামাকে ফোন করতে ইচ্ছে করেছে, সিনেমা দেখতে ইচ্ছে করেছে। পরশুদিন আমাকে বললো- মা,  আমার হঠাৎ করে বাত্তমিজ এর সিনেমা দেখতে ইচ্ছে করছে। চালিয়ে দেবে? বললাম দিতেই হবে? বললো হ্যাঁ, হঠাৎ করে ইচ্ছে করেছে। বললাম অন্য কোনো সিনেমা দেখবে? বললো না, ওটাই দেখতে ইচ্ছে করছে। তারপর আমি ' ইয়ে জবানি হ্যায় দিবানি ' চালিয়ে দিলাম। 

কাল রাতে কোনো একটা কথার পরে বললো  exactly!!  

আজ সকালে আমাকে আইপ্যাডের app store খুলে  একটা  গেম দেখিয়ে দিয়ে বললো - মা তুমি আপাতত এটা ইনস্টল করো। ইন্টারনেট কাজ করছে না, সেটা অবশ্য একটু সমস্যা!! 

আমি তো তার কথা শুনে হাঁ হয়ে গেলাম! 

Tuesday, February 24, 2015

goole search

বাবান এখন পড়তে শেখেনি। a,b,c,d শিখেছিলো বছর দেড়েক বয়সে। তাই যেকোনো ইংরেজি বানান দেখলে সে বানানটা বলে দিতে পারে। আমরা সেই অর্থে তাকে এখনো পড়াশুনো শেখানোর চেষ্টা করিনি। মাঝে মাঝে তার দু-চারটে ভুল শুধরে দিয়েছি মাত্র। তার অনেক বই আছে ছবি দেখে, বানানগুলো নিজে নিজে বলে ইচ্ছে হলে। আমরা গল্প পড়ে বা বলে শোনাই, সেটা শুনতে ভালোবাসে। যখন বুঝি মন দিচ্ছে না তখন বন্ধ করে দিই। তবে আইপ্যাড নিয়ে নানান জিনিস এক্সপেরিমেন্ট করতে সে খুব পছন্দ করে, সেটার সু্যোগ নিয়ে আমি একদিন গুগুলে সার্চ দেওয়া শিখিয়ে ছিলাম। এখন সেটা তার ভীষণ পছন্দের একইসঙ্গে আনন্দের কাজ হয়েছে। 

তার অনেক ইংরেজি বই আছে।  যেমন - ওয়াইল্ড আনিম্যালস, ভেজিটেবিলস, ভেইকেলস, নানান শেপস, ডোমেস্টিক আনিম্যালস এইসব।  ছবির নিচে বানাগুলো লেখা আছে।  সেই বানানগুলো  দেখে দেখে বাবান গুগুলে সার্চ দেয় তারপর ইমেজেস এ গিয়ে ছবি দেখে ভীষণ আনন্দ পায়। শুধু তাই নয়, এখন যেখানে যা বানান দেখে সেটাই সার্চ দিয়ে খোঁজার চেষ্টা করে। যেমন আমার টি-শার্ট, ব্যাগ, বাবার ব্যাগ, কোনো ফেলে দেওয়া বক্স মোদ্দা কথা যা পায় তাই। 

এটা করতে গিয়ে দুটো বেশ মজার ঘটনাও ঘটালো! একদিন তার জল খাওয়ার বোতোলে লিটিল'স লেখাটা দেখে সার্চ দিয়েছে, তাতে ছোটদের নানান জিনিসের ছবি পেয়েছে। প্রথমেই বললো বোতোলের ছবি আসেনি কেনো? আমার মনে হয় কিছু একটা ভুল হয়েছে! মা দেখো তো! তখন ব্যাপারটা বুঝিয়ে দিলাম। এখন তাই সে লিটিল কথাটার মানে জানে। আর একদিন আমার ফোনে স্যামসং লেখা দেখে সার্চ দিয়েছে, অনেক ফোনের ছবি এসেছে দেখে সে বেশ উতফুল্ল হয়ে লাফিয়ে উঠলো! তারপর বলতে লাগলো কোনটা বাবার ফোনের মতো দেখতে, কোনটা মায়ের। তারপরেই হঠাত খেয়াল হলো মায়ের ফোনের কভারটা তো আসেনি!! ব্যাস আবার প্রশ্ন! তোমার ফোনের কভারটা আসেনি কেনো মা? প্রথমে খুব হেসেছিলাম, তারপর বুঝিয়ে দিলাম। 

Wednesday, February 18, 2015

app store

বাবান আজ একটা অসাধারণ কথা বলেছে। সে তার আইপ্যাডটা নিয়ে এয়ারপ্লেন  গেমটা  খেলার চেষ্টা করছে, কিছুতেই প্লে করতে পারছে না। তখন আমাকে বললো দেখো কিছুই করা যাচ্ছেনা। আমি কিছু না দেখে জাস্ট বললাম - হবে না? এতো গেম ইনস্টল করেছো!!  শুনেই বললো - হ্যাঁ বাবা খুব দুষ্টু, প্রচুর গেম ইনস্টল করেছে।  বলেই হঠাত তার মাথায় একটা বুদ্ধি এলো! আমাকে বলছে - মা গেম ইনস্টল করারটা ডিলিট করে দেবো? আমি তাকিয়ে দেখি ipad app store টায় আঙুল দিয়ে বসে আছে। আমি তো দেখেই হো হো করে হাসতে শুরু করেছি। তারমধ্যে ও ডিলিট করার চেষ্টা করেছে, হয়নি দেখে জিজ্ঞেস করলো এটা ডিলিট করা যায়না কেনো? বললাম ওটা আইপ্যাডের নিজস্ব জিনিস ডিলিট করা যায় না। তখন বললো তাহলে রিস্টার্ট করো। অগত্যা রিস্টার্ট করে আবার তার গেম চালু করে দিতে হলো। :)

Friday, February 13, 2015

তোমার বাবা

আজ বাবান অন্য ঘর থেকে দৌড়ে এসে তার বাবাকে দেখতে না পেয়ে, আমাকে জিজ্ঞেস করলো তোমার বাবা কোথায়? হ্যাঁআহ?!  তোমার বাবা? বারবার জানতে চাওয়াতে আমি বললাম, আমার বাবা নেই! ও আবার বললো - কোথায় হ্যাঁ?  তখন আমি বললাম মারা গেছে! আবার প্রশ্ন-  কেনো? কি করে হ্যাঁ? বললাম অসুখ করেছিলো। শুনে বললো না মারা যায়নি আছে। দেখাচ্ছি। বলে আবার নিজের বাবাকে ডাকতে লাগলো। তখন আমি বললাম ওটা তো তোমার বাবা। আমার বাবা কোথায়? সঙ্গে সঙ্গে বললো - তুমি তো বললে মারা গেছে। থাকবে কেনো তাহলে? নেই তো! 

আমরা এতোদিন এটাই চেয়েছিলাম যে,  বাবান প্রশ্নটা নিজের থেকে করুক। আগে থেকে আমরা ওকে কিছু বলে দেবো না। তাই করলো।i আশাকরি এবার বাবানের এই প্রসঙ্গটা মনে থাকবে। আমি তারপরেই বললাম - এই তো তুমিই আমার বাবা। বললো - না আমি তোমার ছোট্ট পুঁচু, বলে আমার কোলের মধ্যে ঢুকে আদর খেতে লাগলো।

Saturday, January 10, 2015

আদরের ম্যাও :-)


ছোটবেলায় একটা গল্প শুনেছিলাম, কার কাছে সেটা এখন মনে নেই, তবে গল্পটা এরকম - রামায়ণে সেতুবন্ধনের সময় রামচন্দ্রকে একটা কাঠবিড়ালী তার গায়ের মধ্যে করে বালি এনে দিয়ে সেতু বাঁধতে সাহায্য করেছিল। রামচন্দ্র আদর করে কাঠবিড়ালির পিঠে হাত বুলিয়ে দিয়েছিল এবং সেই থেকেই তাই ওদের পিঠে অমন দাগ। সত্যি এটা গল্প হিসেবে খুবই কিউট একটা গল্প, কিন্তু বাস্তবটা আমার কাছে আরও কিউট। তাই এই গল্পটাকে আমার মনে এনে দিল।
আমার বাড়িতেও এমনই একটা ছোট্ট কাঠবিড়ালি আছে। আমাকে অনেক সাহায্য করে। তবে তাকে কাঠবিড়ালি না বলে এমনি বিড়াল বলাই ভালো কারণ আমি তাকে ম্যাও বলেই ডাকি। এই তো আজ রাতে তাকে ঘুম পাড়ানোর আগে বিছানা ঝাড়ার সময় বললাম ম্যাও বিছানা থেকে চিরুনিটা তুলে নাও। বলা মাত্রই খুব ব্যাস্ত হয়ে চিরুনি তুলে ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ার খুলে তাতে চিরুনি ভরে আবার বন্ধ করে দিল। তারপর বললাম সারা ঘরে জামা কাপড় ছড়িয়ে আছে , সোনা তুমি ওগুলো তুলে নিয়ে একটু লন্ড্রী ব্যাগে দিয়ে দাওনা। কথাটা শুনেই সংগে সংগে তার নিজস্ব ভংগিতে একটা একটা করে সেগুলো তুলে নিয়ে ব্যাগে রেখে এলো। ব্যাগটা একটু দূরেই রাখা আছে।
এরকম ছোট খাটো কাজ বা সাহায্য সারাদিনে সে এতো করে থাকে যে আমি একটা লেখায় তা ধরাতে পারবো বলে মনে হচ্ছেনা। (তবে বড়দের কাছে যেটা ছোট তার কাছে সেটা ছোট নয়। কারণ সে নিজেই এখন ভীষণ ছোট) আমার কাছাকাছি জলের বোতল না থাকলে সংগে সংগে আমি তো আবদারের গলায় শুরু করি বাবান একটু জল দাওনা। বাবান অমনি হ্যাঁচড় প্যাঁচড় করে এক লিটারের একটা জলের বোতল রান্নাঘর থেকে আমাকে এনে দিলো। তবে এনে দিয়েই সে কিন্তু ক্ষান্ত হয়না, নিজেও মনে মনে একটা গর্ব বোধ করে আর আমার আদরের লোভে গলাটা বাড়িয়ে দিয়ে চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে, আদর করে দিলে লজ্জা পেয়ে হাসতে হাসতে চলে যায়।
সব সময় যে শুধু কাজ করে তা কিন্তু নয়। অকাজও করে। আমি হয়তো বললাম ম্যাও ওলেটা আয়নার পিছনে রেখে এসো। সে সেটা রেখে আরও পাঁচটা জিনিস সেখান থেকে বের করে ঘরের মেঝেতে ছড়ায়। তখন মনে হয় উফফ কেন আমি বললাম! আর নিজের খেলনা ছড়ানোর কথা তো লেখার দরকার আছে বলে মনে হয়না। খেলনাগুলো খেলনার ঝুড়িতে রেখে আসতে বললে ওই একই কাজ করে একটা রাখে আর দশটা....
আজকাল তার সব কথা শোনার পরেই ইমিডিয়েট নকল করা চাই সংগে দু একটা ছোট খাটো সেন্টেন্সেও। পা দিতে নেই। হাত ধুই। ভাত দি। ভাত দিচ্ছি। আইপ্যাড দি। তাই তাই তাই, মামার বাড়ি যাই। এই সমস্ত কথা সে বলে তবে সবই তার মিষ্টি মিষ্টি আধো উচ্চারণে।শুনতে খুব মজা লাগে। যদি বলি ঘুম পাড়িয়ে দাও। তখন আ আ করে গান করে থাবড়ে থাবড়ে আমাকে ঘুম পাড়াতে থাকে। কোনো গান শুনলে সেটার সুরটা করার চেষ্টা করে। গান শুনলে অবশ্য না নেচে থাকতে পারে না। বাজনা শুনলেও নাচ হয়ে যায়।
ম্যাও বয়সের দিক থেকে খুব ছোট্ট মাত্র এক বছর সাড়ে তিন মাসের, তা হলে কি হবে, তাকে আমার ছোট্ট ভাবতে ইচ্ছেই করে না। কারণ আমার সমস্ত কথা না হলেও অন্তত  বেশিরভাগ কথাই যেন সে বুঝতে পারে। সে আমার সংগে ফাজলামিটাও করে যেন বুঝে বুঝে। একেবারেই কানাই মাস্টারের বিড়াল ছানা '... আড়ে আড়ে চায় মুখপানে, এমনি সে ভান করে যেন যা বলি বুঝেছে তার মানে।' সত্যি আমার ছানা বিড়ালটাও সেদিক থেকে যেন কোনো অংশে কম যায় না। সে ছোট্ট ছেলে নয়। ছোট্ট একটা মানুষ। তাই তার সংগে সারাদিন আমি খেলা করে, গল্প করে, আনন্দ করে অনায়াসে কাটিয়ে দিতে পারছি। সেও আমাকে আনন্দ দিতে পারে শুধু খেয়ে, ঘুমিয়ে আর কেঁদে দিন কাটিয়ে দেয় না।  সে রীতিমতো বাড়ির একজন এনটিটি। আমার ছোট্ট ম্যাও। সোনা তোমাকে এত্তো আদর আর চুমু উমমাহ!!
১৭.৫.১৩

Tuesday, January 6, 2015

ব্ল্যাকমেলিং :)

বাবান এখন প্রায় প্রত্যেক কথাতেই আমাকে ইমোশনাল ব্ল্যাকমেল করে। পান থেকে চুন খসার এতোটুকু উপায় নেই। কোনোনা কোনো ছুতোয় রাগ করাটা তার একটা কাজের মধ্যে পড়ে। আমাকে হয়তো বললো মা আইপ্যাডটা দাও। আমি যদি বলি না এখন হবেনা। সঙ্গে সঙ্গে যাহ! বলে মুখ ব্যাজার করে বসে থাকে। তারপরেই বলে - তুমি তাহলে আমাকে একটুও ভালোবাসবে না। তুমি বাবাকে ভালোবাসবে। সদ্য সদ্য মামার কাছ থেকে ফিরেছে বলে এখন বলে - আমাকে মামা ভালোবাসবে, মামণি ভালোবাসবে, অঙ্কিতদাদা ভালোবাসবে। তুমি বাড়ি থেকে চলে যাও। আমি একাই থাকবো। তুমি পড়তে চলে যাও, তুমি দরজা দিয়ে বাইরে চলে যাও আমাকে একদম ভালোবাসবে না। রাগ করার ধরনটা রিভার্সে চলে :)। 

কাল বিকেলে টিভিতে  হিং টিং ছট অনুষ্ঠানে  'পাকুড় জলার পেত্নী' বলে একটা গল্প দেখছিলো। সেখানে পেত্নীকে দেখেই ভয় পেয়ে ওর চেয়ার থেকে আমার চেয়ারে, আমার কোলে চলে এলো। বললাম আমার কষ্ট হচ্ছে তুমি তোমার চেয়ারে বোসো। কিছুতেই যেতে চাইছেনা। আমি তো জানি ভয়ে যাচ্ছে না। তাই আমিও মজা করে জোর দিচ্ছিলাম, তোমার চেয়ারে যাও। সঙ্গে সঙ্গে বললো তাহলে কিন্তু পেম্নী আমাকে হামি করবে। পেত্নীকে পেম্নী বলে। তুমি হামি দিতে পারবে না!! এরকম নানান ইমোশনাল ব্ল্যাকমেলিং আমার সঙ্গে চলতে থাকে।  

প্রয়োজন মতো রিকোয়েস্ট করতেও শিখেছে। সকালে বাবা অফিস বেরোনোর আগে তার কাছে গিয়ে শুরু করে -  বাবাআহ!  প্লিজ আমাকে চান করিয়ে দাওহ! রাতে বলে বাবা প্লিজ ব্রাশ করিয়ে দাওহ, আমার ঘুম পেয়েছে। খুব সুন্দর একটা সুর আছে তার রিকোয়েস্ট করার। চুইনগাম খাওয়ানোর ইচ্ছে হলে মা প্লিজ, বাবা প্লিজ একটা খাও। আমি ছোটো আমার কথাটা শোনো, প্লিজ! খাওহ!! আবার না খেলেই সঙ্গে সঙ্গে গলার স্বর চরমে তুলে - আই খাও বলছি, শুনতে পাচ্ছোনা? বলেই একটা হাতের উল্টোদিকের চড় কষিয়ে দেয়। 

তবে বাবান খুব শিগগির বড় হয়ে যাচ্ছে আমরা বুঝতে পারছিনা। তার কিছু কথা সেটা মনে করিয়ে দেয়। পরশুদিন বাবান তার একটা ছোটো খেলনা-বালতি খুঁজছিলো। পেলোনা যখন আমাকে বললো খুঁজে দাও। আমি বললাম ওইখানে দ্যাখোনা। মনে হয় মিতামাসি কাজ করার সময় গুছিয়ে রেখে গেছে। সঙ্গে সঙ্গে করুণ মুখ করে বললো - না, মনে হয় মিতামাসি চুরি করে নিয়ে চলে গেছে। বললাম ছি! ছি! একথা একদম বোলোনা। অমন বলতে নেই। সে তোমার সব খেলনা যত্ন করে গুছিয়ে রেখে যায়। সত্যি এটা খুবই ডেঞ্জারাস কথা। আমরা কখনো এইধরনের কথা বলিনা। ও কিভাবে শিখলো তাই নিয়ে চিন্তা হয়, অবাকও হই বটে। ওর বাবা শুনে বললো সাবধান বাবান কিন্তু বড় হয়ে গেছে। 

সত্যিই তাই। বাবান বড়ো হয়ে গেছে। এখন সে নিজের থেকে গুছিয়ে সেন্টেন্স বলে। কোনো কথা শুনে বললে, প্রয়োজনমতো তার সঙ্গে এক্সট্রা কথা জুড়ে দিয়ে কথা কমপ্লিট করে। নিজের থেকে বানিয়ে গল্প বলে। ফলে এখন আমাদের খুব সাবধানেই বাক্যবিনিময় করতে হয়। আমরাও প্রয়োজনমতো 'বাক্যবিনিময়ে'র মতো তার অজানা কিছু শব্দ ব্যবহার করে কথা বলি। কোনো একটা সূত্র খুঁজে পেলেই বলে ওঠে কার কথা বলছো? আমার কথা? ও হ্যাঁ বুঝেছি আমার কথা। বলেই লজ্জা পেয়ে মুচকি মুচকি হাসে। এই লজ্জা লজ্জা হাসিটা সে কোনো কিছুতে ধরা পড়ে গেলেও হাসে। 

চালাকিতেও সে কোনো অংশে কম যায়না। তার জল খেতে একটু অনিহা আছে। তাই নানান ছুতোয় আমি জল খাওয়াই। কাল আমি একগ্লাস জল দিয়ে বললাম - বনু কিভাবে জল খায় দেখাও। বনু ওর মামার মেয়ে। অঙ্কিতদাদা কিভাবে খায় দেখাও। দুবারই দেখালো।  তারপর বললাম বাবুরামমামা কিভাবে খায়? বনুর মামা। ঝপাৎ করে বালিশে শুয়ে আমার মুখের দিকে তাকিয়ে ফিচফিচ করে হাসতে হাসতে বললো - এবার তুমি দেখাও!! সে মুখটা বেশ লক্ষ করার মতো। 

সারাদিন নানান ফাজলামি, দুষ্টুমি, খেলা, বকবক করে পুরো জমিয়ে রাখে। তার সঙ্গে যে থাকে তাকে একটুও বোর হতে দেয়না। সারাদিন নানান কাজে নিজেও ব্যস্ত থাকে, সবাইকে রাখেও। নিজের চাহিদাগুলো পরিষ্কার বলতে পারে, বুঝিয়ে দিতে পারে। খুবই মজার, দুষ্টু, ফাজিল আমার সোনাসোনা বুড়ো। এত্তো আদর। উমমমাহহ!!

শিশু দিবস।

চোদ্দই নভেম্বর। শিশু দিবস। সেদিন বাবানের বয়স ছিলো দু বছর, দশ মাস, চোদ্দ দিন। আমি আর ওর বাবা তৈরি হচ্ছিলাম যে যার কাজে বেরোতে হবে। বাবান নিজের মনে দিদুনের পাশে বসে আইপ্যাড নিয়ে খেলছিলো। দিদুন বললো ধুর! ভাল্লাগেনা! বাবা- মা সারাদিন চলে যায়, শুধু তুমি আর আমি, মনটা খারাপ হয়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে বাবান বললো - মন খারাপ কোরোনা দিদুন। একদম মন খারাপ করতে নেই! আমি তো আছি। বাবা মা ঠিক চলে আসবে। বলে দিদুনের মুখে হাত দিয়ে দুটো গাল ধরে আদর করে দিয়েছিলো। তখন মনে হলো বাবানকে কি শিশু বলা যায়?  সত্যিই বাবান আর শিশু নেই।

ঠিক তার আগের রাতেই দিদুন (আমার মা)   গল্প করছিলো - বাপরে আগে ওকে রাখতে কি কষ্ট হতো!  তুই চলে যাওয়ার পর ঘুমিয়ে ঘুমিয়েও ফোঁপাতো।  ঘরের দরজা বন্ধ করে লুকিয়ে নিলে তুই কলেজ যেতে পারতিস। আর এখন ঘুম থেকে উঠেই বাবান বলে - মা তুমি কলেজ চলে যাও। আমি দিদুনের কাছে থাকবো। দিদুনের সঙ্গে খেলা করবো। একটুও দুষ্টুমি করবো না, একদম ঝামেলা করবো না। ভালো ছেলে হয়ে থাকবো। তবে মুড ভালো থাকলে। ঘুম ভালো হলে এই কথাগুলো শোনা যায়। না হলে উঠেই একটু ঝামেলা করে নেয়। তুমি একদম কলেজ যাবেনা। আমার কাছে থাকবে। শুধু বাবা ইন্সটিটিউট যাবে। আবার উল্টোটাও হয়। যদি আমার ওপর কোনো কারণে রাগ হয়ে থাকে -  বাবা একদম যাবেনা। শুধু তুমি যাবে। 

আমার কলেজ যাওয়াটা বাবান এখন পছন্দই করে। আমি চলে গেলে ওর বড়োরাণী আসে। মাঝে মাঝে ছোটোরাণীও। তাতে খুব মজা! সারাদিন খেলা খেলা আর খেলা। পুজোর ছুটিতে একমাস টানা ছুটি থাকায় বড়োরাণী আসছিলো না। বাবান বোর হয়ে যাচ্ছিলো। রাণীকে খুব মিস করছিলো। তাই আমাকে একদিন বললো তুমি কলেজ চলে যাও। তখন দিদুনও ছিলো না। বাড়ি চলে গেছিলো। বুঝলাম আমি কলেজ গেলে তবে ও খেলার সাথীদের পাবে। না হলে সম্ভব না। রাণীদের সঙ্গে নানান খেলাধুলো হয়।

আজ বাবান তার জলের বোতলটা হাতে নিয়েই আমাকে বললো - তোমার জলের বোতলটা নিয়ে এসো, ইয়া

আজ বাবান তার জলের বোতলটা হাতে নিয়েই আমাকে বললো - তোমার জলের বোতলটা নিয়ে এসো, ইয়ারস করবো। আমি প্রথমে বুঝতে পারিনি। হাত দিয়ে দেখিয়ে আবার বললো ইয়ারস। তখন আমার মাথায় এলো অহ! গ্লাসে গ্লাস ঠুকে চিয়ারস এর মতো?  বললো হ্যাঁ। আমি অবাক হলাম! বললাম এটা কোথায় শিখলে? বললো বাত্তমিজ করে। 

ইয়ে জবানি হ্যায় দিবানিতে সত্যিই বাত্তমিজ ওটা করেছিলো। বাত্তমিজ - রণবীর কাপুর।

আজ বাবান আমাকে বলেছে - মা তোমার চোখে জল কেনো? আমি বললাম তুমি খুব ছোট্ট তো, তাই ত

12/31/14 

আজ বাবান আমাকে বলেছে - মা তোমার চোখে জল কেনো? আমি বললাম তুমি খুব ছোট্ট তো, তাই তোমাকে বলা যাবে না! বললো বলা যাবে না? বললাম না। তখন সে আরো ছোট্ট হয়ে, তার নিজস্ব ভঙ্গিমায় কুঁইকুঁই করে আমার কোলের মধ্যে মুখ গুঁজে শুয়ে আওয়াজ করতে থাকলো। তার ছোট্ট হয়ে যাওয়ার একটা বিশেষ আওয়াজ আছে। যেটা আমরা বুঝতে পারি। 

বাবান ছোট্ট হলেও তার সঙ্গে আমি কিছু কথা শেয়ার করেছি। তাতে বাবান তার নিজস্ব ভাষায় আমাকে সুন্দর ব্যাখ্যা দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছে আমার ধারনা ভুল। আমি ভুল ভাবছিলাম। আসলে ঠিক কোনটা। আমার মুখ দেখে রাগ, দু:খ, অভিমান সবই বাবান বুঝতে শিখেছে।  গতকাল সকালে আমার মুখ দেখে বাবান  বললো- মা তুমি রেগে আছো কেনো? আমি বললাম - ওই যে, তোমার বাবা কিছু না বলে দুম করে  অফিস চলে গেলো!  বাড়িতে কিচ্ছু নেই, অনেক কাজ বাকি....। ) সংগে সংগে তার পাশে থাকা একটা প্লাস্টিকের টুলে হাত দিয়ে কিল মেরে বললো এমন করে বাবা গেলো? এমন করে গেলো না!! টুলে হাত দিয়ে হাঁটার ভঙ্গিমায় দেখালো - এমন করে আস্তে আস্তে গেলো। দুমটা তো আওয়াজ, দুম করে কেউ যায় না। তুমি ভুল ভাবছিলে!!

Tuesday, November 18, 2014

শিশু দিবস

চোদ্দই নভেম্বর। শিশু দিবস। সেদিন বাবানের বয়স ছিলো দু বছর, দশ মাস, চোদ্দ দিন। আমি আর ওর বাবা তৈরি হচ্ছিলাম যে যার কাজে বেরোবো বলে। বাবান নিজের মনে দিদুনের পাশে বসে আইপ্যাড নিয়ে খেলছিলো। দিদুন বললো ধুর! ভাল্লাগেনা! বাবা- মা সারাদিন চলে যায়, শুধু তুমি আর আমি, মনটা খারাপ হয়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে বাবান বললো - মন খারাপ কোরোনা দিদুন। একদম মন খারাপ করতে নেই! আমি তো আছি। বাবা মা ঠিক চলে আসবে। বলে দিদুনের মুখে হাত দিয়ে দুটো গাল ধরে আদর করে দিয়েছিলো। তখন মনে হলো বাবানকে কি ছোট্টো শিশু বলা যায়? সত্যিই বাবান আর সেই ছোট্টো শিশু নেই।

ঠিক তার আগের রাতেই দিদুন (আমার মা) গল্প করছিলো - "বাপরে আগে ওকে রাখতে কি কষ্ট হতো! তুই চলে যাওয়ার পর ঘুমিয়ে ঘুমিয়েও ফোঁপাতো। ঘরের দরজা বন্ধ করে লুকিয়ে নিলে তুই কলেজ যেতে পারতিস। আর এখন ঘুম থেকে উঠেই বাবান বলে - মা তুমি কলেজ চলে যাও। আমি দিদুনের কাছে থাকবো। দিদুনের সঙ্গে খেলা করবো। একটুও দুষ্টুমি করবো না, একদম ঝামেলা করবো না। ভালো ছেলে হয়ে থাকবো।" তবে মুড ভালো থাকলে, ঘুম ভালো হলে, তবেই এই কথাগুলো শোনা যায়। না হলে উঠেই একটু ঝামেলা করে নেয়। "তুমি একদম কলেজ যাবেনা। আমার কাছে থাকবে। শুধু বাবা ইন্সটিটিউট যাবে।" আবার উল্টোটাও হয়। যদি আমার ওপর কোনো কারণে রাগ হয়ে থাকে -  "বাবা একদম যাবেনা। শুধু তুমি যাবে।"

আমার কলেজ যাওয়াটা বাবান এখন পছন্দই করে। আমি চলে গেলে মাঝে মাঝে ওর বড়োরাণী আসে। কখনো সখনো ছোটোরাণীও। তাতে খুব মজা! সারাদিন খেলা খেলা আর খেলা। পুজোর ছুটিতে একমাস টানা ছুটি থাকায় বড়োরাণী আসছিলো না। বাবান বোর হয়ে যাচ্ছিলো। রাণীকে খুব মিস করছিলো। তাই আমাকে একদিন বলেছিলো তুমি কলেজ চলে যাও। তখন দিদুনও ছিলো না। বাড়ি চলে গেছিলো। বুঝেছিলাম - আমি কলেজ গেলে তবে ও খেলার সাথীদের পাবে। না হলে সম্ভব না। 

Saturday, November 1, 2014

লোগো

আমাদের বাড়িতে দুটো ম্যাকবুক, একটা HP ল্যাপটপ। HP টা অফিস থেকে পাওয়া, নইলে এমনিতে ওটা কেনা হতো না। বাড়িতে ল্যাপটপ নিয়ে কাজ করা মানেই বাবান ঝামেলা শুরু করে দেয়, তারও ল্যাপটপ চাই বলে। বাবানকে তখন ওই HP টা দেওয়া হয়। প্রথমদিকে বাবান ওটা নিতে রাজি হতো না। ওটা কালো, ওটা ভালো না, বিচ্ছিরি, কালো -- এসব বলতো। কিন্তু শেষমেষ একটা গোটা ল্যাপটপ পাবার সুখ উপেক্ষা করতে পারেনি, খুশিমনেই ওটা ওর ল্যাপটপ বলে মেনে নিয়েছে। 

আমাদের প্রিন্টারটাও HPর। কোন কারণে একদিন সেটার উপরে চাদর ঢাকা ছিলো না। ঘরে ঘোরাঘুরি করতে করতে নিয়ে হঠাৎই বাবানের চোখ পড়ে যায় সেটার উপর। বাবান উচ্ছ্বসিত হয়ে বলে উঠলো -- "মা এটা আমার ল্যাপটপ"। "বাবা এটা আমার ল্যাপটপ"।

কয়েকদিন পর এই ঘটনাটা নিয়ে গল্প করতে করতে মনে হলো আর কি কি লোগো observe করেছে ও? Google image search করে কিছু brand এর লোগো দেখালাম। দেখলাম ও যা যা দেখে চারপাশে তার অধিকাংশেরই লোগোর সঙ্গে সেই জিনিসগুলো associate করতে পারে। 

Chevrolet র লোগো দেখে বাবার গাড়ি ও আগেও বলেছিলো। Volkswagen, Honda আর Suzuki র লোগো দেখেই বলে দিলো গাড়ি। কোথায় দেখেছো বলতে রাস্তায় বা নিচে কাকুদের গাড়িতে দেখেছে, তাও। Samsung - ফোন, Tata Sky বা Sony - টিভি। Twining - চা। আমাদের অবাক লাগলো যখন BMW, Marcedez Benz, Audi এগুলোও বলে দিলো। এই গাড়িগুলো আশেপাশে খুব একটা দেখেনি ও। কিন্তু সে বলে দিলো iPad এর গেম এ দেখেছে! শুধু Godrej টা বলতে পারলো না, Britania কে বললো সাবান। 

Wednesday, October 22, 2014

ব্ল্যাকমেলিং :)

বাবান এখন প্রায় প্রত্যেক কথাতেই আমাকে ইমোশনাল ব্ল্যাকমেল করে। পান থেকে চুন খসার এতোটুকু উপায় নেই। কোনোনা কোনো ছুতোয় রাগ করাটা তার একটা কাজের মধ্যে পড়ে। আমাকে হয়তো বললো মা আইপ্যাডটা দাও। আমি যদি বলি না এখন হবেনা। সঙ্গে সঙ্গে বড়ো একটা নিঃশ্বাস ফেলে বলে - যাহ! বলে মুখ ব্যাজার করে বসে থাকে। তারপরেই বলে - তুমি তাহলে আমাকে একটুও ভালোবাসবে না। তুমি বাবাকে ভালোবাসবে। সদ্য সদ্য মামাবাড়ি থেকে ফিরেছে, তাই এখন বলে - আমাকে মামা ভালোবাসবে, মামণি ভালোবাসবে, অঙ্কিতদাদা ভালোবাসবে। তুমি বাড়ি থেকে চলে যাও। আমি একাই থাকবো। তুমি পড়তে চলে যাও, তুমি দরজা দিয়ে বাইরে চলে যাও, আমাকে একদম ভালোবাসবে না।

মুখে এসব কথা, মনে প্রত্যাশাটা অবশ্যই উল্টো। এক ছুটে গিয়ে বিছানায় উঠে সে হয় বালিশে নয় চাদরে মুখ ঢেকে শুয়ে থাকে। তাকে জোর করে আদর করতে হয়। সে আরো কিছুটা রাগ দেখায় - না যাও, যাও। সরিয়ে দেয়। তখন আরো জোর করে ধরে আদর করে দিতে হয়। তখন গল্প শেষ হয়। কখনো কখনো তার রাগকে গুরুত্ব না দিয়ে "আমাকে ভালবাসবে না" আদেশটা যদি আমরা তখনকার মতো মেনে নিই, তাহলে সে মুখ ঢেকে চুপ করে অপেক্ষা করে। একবার আমরা বুঝতে পারিনি যে ও অন্য ঘরে গিয়ে রাগ করে শুয়ে আছে। কিছুক্ষণ পরে সে গট গট করে আমরা যে ঘরে ছিলাম সেই ঘরের দরজায় এসে দাঁড়িয়ে দেখা দিল। ফোলানো ঠোঁট অভিমানে থরথর করে কাঁপছে। এক মূহুর্ত দেখা দিয়েই আবার আরো রাগ করে গিয়ে শুয়ে পড়লো। অভিমান দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছিলো ততক্ষণে! 

কাল বিকেলে টিভিতে  হিং টিং ছট অনুষ্ঠানে "পাকুড় জলার পেত্নী" বলে একটা গল্প দেখছিলো। সেখানে পেত্নীকে দেখেই ভয় পেয়ে ওর চেয়ার থেকে আমার চেয়ারে, আমার কোলে চলে এলো। বললাম আমার কষ্ট হচ্ছে তুমি তোমার চেয়ারে বোসো। কিছুতেই যেতে চাইছেনা। আমি তো জানি ভয়ে যাচ্ছে না। তাই আমিও মজা করে জোর দিচ্ছিলাম, তোমার চেয়ারে যাও। সঙ্গে সঙ্গে বললো তাহলে কিন্তু পেম্নী আমাকে হামি করবে। পেত্নীকে পেম্নী বলে। তুমি হামি দিতে পারবে না!! এরকম নানান ইমোশনাল ব্ল্যাকমেলিং আমার সঙ্গে চলতে থাকে। 

প্রয়োজন মতো রিকোয়েস্ট করতেও শিখেছে। সকালে বাবা অফিস বেরোনোর আগে তার কাছে গিয়ে শুরু করে -  বাবাআহ!  প্লিজ আমাকে চান করিয়ে দাওহ! রাতে বলে বাবা প্লিজ ব্রাশ করিয়ে দাওহ, আমার ঘুম পেয়েছে। খুব সুন্দর একটা সুর আছে তার রিকোয়েস্ট করার। চুইনগাম খাওয়ানোর ইচ্ছে হলে মা প্লিজ, বাবা প্লিজ একটা খাও। আমি ছোটো আমার কথাটা শোনো, প্লিজ! খাওহ!! আবার না খেলেই সঙ্গে সঙ্গে গলার স্বর চরমে তুলে - আই খাও বলছি, শুনতে পাচ্ছোনা? বলেই একটা হাতের উল্টোদিকের চড় কষিয়ে দেয়।

তবে বাবান খুব শিগগির বড় হয়ে যাচ্ছে আমরা বুঝতে পারছিনা। তার কিছু কথা সেটা মনে করিয়ে দেয়। পরশুদিন বাবান তার একটা ছোটো খেলনা-বালতি খুঁজছিলো। পেলোনা যখন আমাকে বললো খুঁজে দাও। আমি বললাম ওইখানে দ্যাখোনা। মনে হয় মিতামাসি কাজ করার সময় গুছিয়ে রেখে গেছে। সঙ্গে সঙ্গে করুণ মুখ করে বললো - না, মনে হয় মিতামাসি চুরি করে নিয়ে চলে গেছে। বললাম ছি! ছি! একথা একদম বোলোনা। অমন বলতে নেই। সে তোমার সব খেলনা যত্ন করে গুছিয়ে রেখে যায়। সত্যি এটা খুবই ডেঞ্জারাস কথা। আমরা সাধারণতঃ এইধরনের কথা বলিনা, কিন্তু কিছুদিন আগে এমন একটা প্রসঙ্গ উঠেছিল বাড়িতে, নিশ্চয়ই তখন শুনে রেখেছে। ওর বাবা শুনে বললো সাবধান বাবান কিন্তু বড় হয়ে গেছে।

সত্যিই তাই। বাবান বড়ো হয়ে গেছে। এখন সে নিজের থেকে গুছিয়ে সেন্টেন্স বলে। কোনো কথা শুনে বললে, প্রয়োজনমতো তার সঙ্গে এক্সট্রা কথা জুড়ে দিয়ে কথা কমপ্লিট করে। নিজের থেকে বানিয়ে গল্প বলে। ফলে এখন আমাদের খুব সাবধানেই বাক্যবিনিময় করতে হয়। আমরাও প্রয়োজনমতো 'বাক্যবিনিময়ে'র মতো তার অজানা কিছু শব্দ ব্যবহার করে কথা বলি। কোনো একটা সূত্র খুঁজে পেলেই বলে ওঠে কার কথা বলছো? আমার কথা? ও হ্যাঁ বুঝেছি আমার কথা। বলেই লজ্জা পেয়ে মুচকি মুচকি হাসে। এই লজ্জা লজ্জা হাসিটা সে কোনো কিছুতে ধরা পড়ে গেলেও হাসে।

চালাকিতেও সে কোনো অংশে কম যায়না। তার জল খেতে একটু অনিহা আছে। তাই নানান ছুতোয় আমি জল খাওয়াই। কাল আমি একগ্লাস জল দিয়ে বললাম - বনু কিভাবে জল খায় দেখাও। বনু ওর মামার মেয়ে। অঙ্কিতদাদা কিভাবে খায় দেখাও। দুবারই দেখালো।  তারপর বললাম বাবুরামমামা কিভাবে খায়? বনুর মামা। ঝপাৎ করে বালিশে শুয়ে আমার মুখের দিকে তাকিয়ে ফিচফিচ করে হাসতে হাসতে বললো - এবার তুমি দেখাও!! সে মুখটা বেশ লক্ষ করার মতো।

সারাদিন নানান ফাজলামি, দুষ্টুমি, খেলা, বকবক করে পুরো জমিয়ে রাখে। তার সঙ্গে যে থাকে তাকে একটুও বোর হতে দেয়না। সারাদিন নানান কাজে নিজেও ব্যস্ত থাকে, সবাইকে রাখেও। নিজের চাহিদাগুলো পরিষ্কার বলতে পারে, বুঝিয়ে দিতে পারে। খুবই মজার, দুষ্টু, ফাজিল আমার সোনাসোনা বুড়ো। এত্তো আদর। উমমমাহহ!!

Monday, June 30, 2014

বিছানাটা ঘুরছে।

প্রতিদন রাতে বাবানকে ঘুম পাড়ানোর আগে তার জামা প্যান্ট ছাড়িয়ে, পাউডার দিয়ে অন্য কাচা জামা, প্যান্ট, ন্যাপি পরিয়ে দি আমরা। সেটা আমি আর ওর বাবা দুজন মিলেই করি। তবে কিছু কিছু জিনিসে ওর সেটআপ আছে, এটা বাবা করবে ওটা মা করবে এই ধরণের।

আজকাল নতুন হয়েছে ফ্রেশ হয়ে ঘুমোনোর আগে একটু নেচে নেওয়া চাই। বাবা গান করবে ও নাচবে। কয়েকটা গান ঠিক করে রেখেছে। যেটা বলবে বাবা সেটা গাইবে। সিং নেই তবু নাম তার সিংহ, তোরা যে যা বলিস ভাই আমার সোনার হরিণ চাই, চেন্নাই এক্সপ্রেস এর কাশ্মীর তু ম্যায় কন্যাকুমারী।

সব গানগুলোয় নাচার পর বাবাকে বললো আর একবার সিং নেই টা করো। তাতে বাবান এমন নাচলো যে তার মাথা ঘুরছিলো। আমরা দেখে হাসতে লাগলাম। বাবান প্রথমে বললো আমার মাথা ঘুরছে, তারপর সে কয়েক সেকেন্ড চুপ করে থেকে বললো বিছানাটা ঘুরছে। কথাটা শুনে আমাদের খুব ভালো লেগেছে। পুরো ব্যাপারটা বাবান ফিল করে বলতে পেরেছে। ওর বাবা তারপর ওকে বুঝিয়ে দিলো যখন আমাদের মাথা ঘোরে তখন মনে হয় সব ঘুরছে। বুঝেছো? সোনাবাবা তার স্বাভাবিক ভাঙ্গিতে বললো বুঝেছি।

Friday, June 27, 2014

ছোট মাসিমণির বাড়ি

বাবান এই প্রথম তার ছোটমণির বাড়ি এসেছে। বাবানের বয়স এখন দু বছর পাঁচ মাস। ছোটমণির ছেলে সোহম, মেয়ে সৃজা। বাবানের সোহমদাদা, সৃজাদিদি। বাবান সোহম বলে ডাকতেই পছন্দ করে, দাদা বলতে চায়না। বলে আমি দাদা ও সোহম।

আসার পরেই সোহম তাকে এত্তো মার্বেল গুলি বের করে খেলতে দিলো। বাবান এ জিনিসও প্রথম দেখলো। খুব খুশি হয়ে দুজনে খেলতে লাগলো। সোহম তাকে একটা আঙুল টেনে কি করে গুলি ছুঁড়তে হয় শেখাতে লাগলো, বাবান সেটা করার চেষ্টা করলো কিন্তু পারলোনা। গুলি ছোঁড়ার পক্ষে বয়সটা বড্ড কম। তবুও অনেকবার চেষ্টা করেছে। সোহম তাকে আরোও নানান খেলনা বের করে দিতে থাকলো, দুজনে খুব মজা করে খেলছিলো। সোহম মাঝে মাঝে কোনো ভুল ত্রুটি করলে বাবান তাকে বেশ ধমক দিয়ে বুঝিয়ে দিচ্ছিল তুমি এমন কোরোনা। এটা করতে নেই। সোহম খুবই দুষ্টু কিন্তু বাবানের কাছে তার দুষ্টুমি ধরা পড়লো না।

বাবানের ছোটমশাইয়ের নাম মনোজ। বাবান আমাকে জিজ্ঞেস করলো মশাইয়ের নাম কী? বলে দিলাম মনোজ ঘোষ। বেশ কিছুক্ষণ পর তাকে জিজ্ঞেস করলাম মশাইয়ের নাম কী? সে অনেক ভাবনা চিন্তা করে বললো এঞ্জিন ঘোষ।

বাবান একটু সর্দি কাশি নিয়েই এসেছিলো। ছোটমণির ঘরের জানলা দিয়ে বাইরে থেকে খুব ধোঁয়া আসায় তার কাশিটা থামতেই চাইছিলো না। শেষে একটু শ্বাস কষ্টও হয়ে গেছিলো। সেটা আরোও বাড়লো তার মামাবাড়ি এসে।

Thursday, June 19, 2014

আমি লিখছি।

মাস ছয় আগে থেকে বাবানকে একটু একটু পড়া শেখানোর চেষ্টা করছি। তবে সেটা কোনো বাঁধাধরা পদ্ধতিতে নয়। আমি জাস্ট লিখে দিয়ে বলতে বলি। এইভাবে সে মা, বাবা, দাদা, তাতা, গাছ, মাছ, ছাতা, পাতা, জল, রুহান, মামা পড়তে শিখেছে। পাশাপাশি আমি গাছ মাছ ছাতা পাতার ছবিগুলো একেও দি।

আমি মোটামুটি যা করি বাবান সেটা নকল করার চেষ্টা করে। তবে চেষ্টা না বলে নকল করে বলাটাই ভালো। গত কয়েকদিন ধরে তাই সে আমাকে আর লিখতে দেয়না। আমার হাত থেকে পেন কেড়ে নিয়ে বলে আমি লিখছি তুমি বলো। সাদা পাতায় হিজিবিজি একটা কিছু পাকায় আর আমাকে জিজ্ঞেস করে এটা কি লিখেছি?  আমি বলি তুমি বলো। সংগে সংগে  অদ্ভুত মুখভঙ্গি করে ভীষণ কনফিডেন্সের সংগে বলে মামা। আবার একটা গোল পাকায় আর বলে এটা? বলেই নিজে উত্তর দেয় বাবা। এইভাবে তার খাতায় পাখি, মাছ, কচ্ছপ, ডলফিন সবই বিরাজ করছে।

গতকাল খাতায় একটা ত্রিভুজ মতো পাকিয়ে বললো এটা বাবা। আমাকে জিজ্ঞেস করলো বাবা এখন কি করছে? বললাম তুমি বলো। বললো খাতায় বসে আছে। তবে তার বলার ভঙ্গি  এবং চোখমুখের কায়দাটা এতো সুন্দর সেটা যদি লিখে বোঝানো যেতো খুব ভালো লাগতো। :)

Thursday, May 22, 2014

মা

বাবান এখন মা বাবা দাদা তাতা রুহান এই কটা লেখা দেখে বলে দিতে পারে। কাল সকালে সুকুমার সেন লেখাটা দেখে নিজেই আমাকে আর ওর বাবাকে বলেছে দেখো এখানে মা লেখা।
আমি তাতা লিখে দিয়ে বলেছি কি লিখেছি বলোতো? লেখাটা দেখে একটু ভেবে ফিচফিচ করে হেসে বললো পিকু। ওর তাতার নাম পিকু। 
ইংরেজি a b c d এগুলো কিছুকিছু চেনে। 
just, disturb, wait, see you এই শব্দগুলোর ব্যবহার খুব সুন্দরভাবে করতে শিখেছে।

Monday, April 7, 2014

পাস্ট টেন্স

বাবান মাস খানেক আগে থেকেই খুব সুন্দর গুছিয়ে পাস্ট টেনশ বলতে শুরু করেছে। এখন সেটা আরো বুঝে বলে। আমি পড়ে গিয়েছিলাম। বৌঠান গাড়িটা দিয়েছিলো।  কাল একটা মুভি দেখে প্রেজেন্ট কনটিনিউয়াস টেনশেও কথা বলতে শুনলাম। ( রাম জলে পড়ে যাচ্ছে।)

এখন নিজের থেকে অনেক সেন্টেন্স তৈরি করে কথা বলে। (পিছনে দেবে :), ) লাল নীল সবুজ হলুদ কালো সাদা কমলা ব্রাউন গ্রে এইসব রঙগুলো সে খুব ভালো চেনে। তাসের ডায়মন্ড হার্ট ক্লাব স্পেডস বিবি সাহেব গোলাম অনায়াসে বলে দিতে পারে।

Saturday, March 22, 2014

প্রথম ট্রেনে চড়া

দু বছর, প্রায় দুমাস বয়স। মা বাবা এর আগে কখনো বাবানকে ট্রেনে চড়ায়নি। একেবারে দূরপাল্লার ট্রেনে জার্নি শুরু। শিয়ালদা- নিউ জলপাইগুড়ি পদাতিক এক্সপ্রেস। এ সি ফার্স্টক্লাস আপার বার্থ।

আমরা গ্যাংটক এসেছি আজ। কাল রাতে আমাদের ট্রেন ছিলো দশটা পঞ্চান্নয়। ট্রেনে জাস্ট রাতটা ঘুমিয়ে নিয়েই সকাল নটায় নেমে পড়া। নামলাম নটা কুড়ি নাগাদ। ট্রেন সামান্য লেট ছিলো।

বাবান কাল রাতে ট্রেনে উঠে খুব অবাক হয়েছে! চুপ করে অনেক্ষণ ভেবেছে। তারপর বললো সাদা বিছানা। ট্রেনের বেড কভার আর ব্লাঙ্কেট কভারটা ছিলো সাদা। আমাদের কো - প্যাসেঞ্জার ছিলেন একজন বয়স্ক লোক আর তাঁর স্ত্রী। তাঁরা বাবানকে দেখে খুব ভয় পেয়েছিলেন। যে আজ জার্নিটা বুঝি মাটি হলো একটুও ঘুমোতে দেবেনা। এতো ছোটো বাচ্চা কি শান্ত থাকতে পারে? বাবান সারারাত একটুও কাঁদেনি। ভালোই ঘুমিয়েছিলো। তাঁরাও নিশ্চিন্তে ঘুমিয়েছিলেন। সকালে বলেছিলেন তোমার লক্ষ্মী ছেলে। 
সকালে উঠে বাবান তাঁদের সংগে অনেক গল্পও করেছে।

নিউ জলপাইগুড়ি থেকে  গ্যাংটক আসতে বাবানের খুব কষ্ট হয়েছে। গাড়িতে উঠলেই বাবান বমি করে। প্রথম দু ঘন্টা ভালো ছিলো, উঠেই ঘুমিয়ে পড়েছিলো। শেষ দু ঘন্টায় খুব কষ্ট পেয়েছে অনেকবার বমি করে বেচারা নেতিয়ে গেছিলো। হোটেলে এসে চান করে ভাত খেয়ে চনমনে হয়েছে তারপর থেকে খুব লাফালাফি আর মজা চলছে। বাবা মা আর রুহান ব্যাপারটা ওর কাছে খুব মজার। 

Wednesday, February 26, 2014

I love you

গত রবিবার ২৩ শে ফেব্রুয়ারি বাবান সকাল থেকে উঠে শুধু বলছে আই লাভ ইউ। বেশ কয়েকবার বলেছে। প্রথমে কথাটা বুঝতে পারিনি। আমি আর ওর বাবা আলোচনা করছিলাম আমরা কি ঠিক শুনছি?? অবাক হচ্ছিলাম দুজনেই! তারপর আমরা যে যার কাজে ব্যস্ত হয়ে গেলাম। কিছুক্ষণ পর দেখি বাবান একটা হ্যান্ড পাম্পার হাতে নিয়ে সেটাকে মাইক্রোফোন এর মতো করে মুখের কাছে ধরে খুব লজ্জা লজ্জা করে হাসি মুখে আমাকে বলছে - মাআহ: আই লাভ ইউ! আমি বললাম তুমি কাকে আই লাভ ইউ বলছো? সংগে সংগে বললো মাকে। বাবান বুঝে বলুক বা না বুঝে বলুক সত্যি বলতে কি খুব খুশি হয়েছি। 
তারপর যথারীতি এটা নিয়ে আমরা ভাবতে লাগলাম ওকে কে শেখালো, কোথা থেকে শিখলো? কোনো খারাপ দিক ভেবে না জাস্ট একটা কৌতুহল থেকে। কারণ ও তো এখন প্রতিদিনই নতুন নতুন কিছু না কিছু শিখছে তাই।
অবশেষে সেটা আমরা উদ্ধার করতে পেরেছি। কিভাবে সেটাও একটা মজার ব্যাপার। বাবান নিজের থেকে জল খায়না কোনোদিন। সেই ছোট্ট থেকেই জোর করে খাওয়াতে হয়। আজকাল একটা নতুন পথ বের করেছি। মীনাম্মার (দিপীকা পাড়ুকন) কোনো সিনেমা চালিয়ে দিলে মোটামুটি সেটা দেখিয়ে কিছুটা খাওয়াতে পারি। ছেলে মীনাম্মা আর চিন্নাইয়ের (শাহরুখ খান)  খুব ভক্ত। কয়েকটা সিনেমা রেকর্ড করে রেখেছি। ঘুরিয়ে ফিরিয়ে চালালে কাজ হাসিল হয়ে যায়। পরশু রাতে জল খাওয়ানো নামক কাজটা হাসিল করতে 'ওম শান্তি ওম' চালিয়ে ছিলাম। সেখানে দেখি শাহরুখ খান এক হাতে মদের বোতল আর এক হাতে সম্ভবত একটা চিরুনি নিয়ে বলেছে আই লাভ ইউ। :)

Friday, November 22, 2013

নমত্‍তার

হাত জোড় করে নমস্কারের ভংগিতে বাবান এখন নমস্কার করা শিখেছে। ওটা ও নিজে নিজে টিভি  দেখে শিখেছে। একদিন জোড়হাত করে আমাকে বলছে নমত্‍তার্। আমি প্রথমে বুঝতে পারিনি তাতে খুব রাগ করেছে। তারপর টিভিতে যখন দেখলাম একজন নমস্কার করছে সঙ্গে সঙ্গে বাবানও তাকে নকল করছে। ব্যাপারটা তখন বুঝতে পারলাম যে বাবানের নমত্‍তার আসলে বাঙ্গালীর নমস্কার। 

Tuesday, November 12, 2013

দেখভাল

বাবান প্রতিদিন নতুন নতুন কিছু না কিছু করছে। নতুন নতুন কথা বলছে রোজই, কিন্তু আমি লিখে উঠতে পারছিনা, একটুও সময় পাইনা আজকাল। সারাদিনে কত কথা যে সে বলে! ঘুমোনোর আগে অবদি তার মুখের বিরাম নেই। সব কাজও তাকেই করতে হবে। কি জুতো পরা, কি জামা পরা, কি ফ্রিজ বন্ধ করা, মাইক্রোওয়েভ স্টপ স্টার্ট সবই তার কাজ। খাওয়ানোর সময় বাটি থেকে চামচ দিয়ে থালায় ঝোল তরকারি দেওইয়া, আমাদের খাওয়ার সময় তিনি সামনে থাকলে তো আর রক্ষে নেই পুরো পরিবেশনটাই নিজে হাতে সামলে দেন। 

Monday, October 21, 2013

মানা এতোওওহ!

গত সপ্তাহে আমি বাথরুমে দাঁড়িয়ে মাথায় একটা হেয়ার টনিক লাগাচ্ছিলাম। বাবান বাইরে থেকে আমাকে ডাকছিল তার সংগে খেলার জন্য। অনেকবার ডেকে ডেকে অস্থির হয়ে যাচ্ছিল, আমি বললাম বাবান দাঁড়াও আর একটু, এই হয়েই এসেছে। দেখলো এভাবে ডেকে হচ্ছেনা। তখন আদর বা আবদার যাই বলি না কেনো সেই সুরে বলতে লাগলো - মানা এতোওহ! মানাআহ! এতোহ! 

কিছু  টুকরো স্মৃতি।

পুজোর সময় একদিন রাতে আমি ভাত খাচ্ছি, পুপুন খেয়ে উঠে মেশিনে বাসন দিচ্ছে। সেই সময় বাবান আমার সামনে এসে হ্যাঁচর প্যাঁচর করে টেবিলে ওঠার চেষ্টা করছে আর বলছে - উফ্ বসতে পাচ্চিনা। সে গলায় অদ্ভুত একটা অস্পষ্ট হতাশা!  খুব মিষ্টি শোনাচ্ছিল।

লক্ষ্মী পুজোর দুদিন আগে পিসিভাই এর বাড়ি গেলাম হাসু আসবে শুনে। হাসু দাদাভাই এর ছেলে। বয়স তিন বছর একমাস। যথারীতি সেও বাবানের দাদাভাই। হাসু আসা মাত্রই বাবান ছোটরাণী ছোটরাণী করে তার কোলে ঝাঁপিয়ে চলে গেল। তার আগে সে ছোটরাণীকে একটুও পাত্তা দিচ্ছিল না।
তারপর হাসুকে দাদা দাদাভাই বলে ডাকা হলো, সে কাছে আসার পরেই তাকে আদরের ভংগিতে দুহাত বাড়িয়ে বাবু বাবু করে কাছে টেনে নিতে চাইলো। কিছুদিন আগে ওর বাবাকেও দুহাত দিয়ে দাড়িটা ধরে বাবু বাবু করে আদর করেছে। এখন বাবাকে আদর মানেই বাবু আর মাকে আদর মানেই মানা।

একদিন বিকেলে জল খাওয়াচ্ছি টিভি চালিয়ে কারণ ও add দেখলে চুপচাপ খেয়ে নেয় না হলে খুব ঝামেলা করে। একটা সিরিয়াল চলছিল ও দেখেই বললো 'মৌচাক'. তার তলায় নিচে ছোট করে আর একটা সিরিয়ালের add দিচ্ছিল। আমাকে সেটা দেখিয়ে বললো 'সখী'...

কোনো দোষ করলে যদি বকা দি, সংগে সংগে তিনিও বড়দের ভংগিতে তর্জনীটা ঠোঁটের কাছে নিয়ে গিয়ে বলেন চুপ। এখন নতুন হয়েছে - বোকোনা। আমি ছোতো।
কাল সন্ধেবেলা টিভির সামনে দাঁড়িয়ে টিভি দেখছে, বললাম অতো সামনে থেকে দেখোনা বাবা বকবে। সংগে সংগে জবাব এলো - বাবা দিল্লী দেছে। সত্যিই ওর বাবা কাল সন্ধ্যেতে দিল্লী গেছে।

Tuesday, October 8, 2013

সেন্টেন্স

বাবান মাস খানেক আগে থেকেই সেন্টেন্স বলতে শুরু করেছে। এখন সেটা আরো স্পষ্ট হয়েছে। মোটামুটি বেশিরভাগ কথাই ও বুঝতে পারে। মাঝে মঝে নিজের থেকে খুব সুন্দর সুন্দর কথা বলে। একদিন ও সীতাভোগ খাচ্ছে, আমি জিজ্ঞেস করলাম কী খাচ্ছো সোনা? প্রথমে বললো বাত তারপর বললো মিত্তিবাত। ও ভ - টাকে ব বলে। এইরকম নানান ধরনের কথা ও বলে সব লেখা হয়নি তাই অনেক কথাই ভুলে গেছি।

এখন একটা বড় কাজ হল আমাকে বা ওর বাবাকে কিছু খেতে দেখলে সেটা খাইয়ে দেওয়া। সংগে সংগে বায়না করে আমাদের হাত থেকে চামচ নিয়ে বলে খাইয়ে দিচ্চি, বলে খাওয়ায় আর প্রতিটা চামচ মুখে দিয়েই জিজ্ঞেস করে ভালো? একটু আগেও তাই করলো, আমি দুধ কর্নফ্লেক্স নিয়ে  বসেছিলাম আমার থেকে নিয়ে আমাকে কিছুটা খাইয়ে দিয়ে বাকিটা নিজে খেলো সম্পূর্ণ একা। ওই বড় চামচ সামলে গুছিয়ে সুন্দর করে একটুও নষ্ট করেনি। শুধু দুধ পড়ে প্যান্টটা একটু ভিজে গেছে।
কিছু কিছু প্রশ্নের উত্তরও দেয় ঠিক ঠিক। বাবা কোথায় যায়্‍, মা কোথায় যায়, তোতো কোথায় থাকে, তাতা কোথায় থাকে? এইধরনের প্রশ্ন বা সে নিজে যখন যা করে বা কাউকে কিছু করতে দেখে। সকালে উঠেই বাবাকে ঘর মুছতে দেখে বললো বাবা দর (ঘ কে দ বলে ) মুছছে। দিদুন নান্না করছে।

আজ দুপুরে দিদুন ভাত খাচ্ছিলো। বাবান গিয়ে জিজ্ঞেস করলো বাত থাচ্চো?? ওর বাবা অফিস থেকে ফিরে এসে জল খাচ্ছে তখন তাকে জিজ্ঞেস করা হলো জন থাচ্চো? বাবান ল কে ন আর খ কে থ বলে। যখন বলে খুব মিষ্টি শোনায়। সন্ধ্যেবেলা আমাকে ডাকছে... আয় আয় সিরিয়াল হচ্ছে। আর একবার ডেকে নিয়ে গেলো চেয়ারে উঠবে বলে। উঠেই আমাকে বললো বতেচি। বললাম কোথায় বসেছো? বললো চেয়ারে বতেচি। নিজের থেকে কথা বলা ছাড়াও যে যা বলছে তাই শুনেও সংগে সংগে বলা হয়ে যাচ্ছে।

আইপ্যাড অপারেট করার কথা আর লিখছি না, শুধু এটুকু বলবো ওর আইপ্যাডের যেখানে যা ভিডিও আছে সেগুলো দেখতে চাইলে ও ইমিডিয়েট দেখিয়ে দেয়। কোথায় কোন ভিডিওটা আছে সব ওর নখদর্পণে। আমরা খুঁজে না পেলেও ও খুঁজে বের করে দেয়।

"আমি" কথাটা এখন মানে বুঝে বলতে পারে। স্পষ্ট করে বলে দেয় "আমি এসেছি"।

Friday, August 30, 2013

সকাল হলে দুধ সুজি

সকাল হলে দুধ সুজি
দুপুর হলে ভাত।
জল খাওয়ার সময় হলে
সবার মাথায় হাত।
বিকেল হলে দই চিঁড়ে 
আপেল কুচি কখনো বা
জল মুড়িও চলে।
সন্ধেবেলা চা দেখলেই
বিতুন খাবো বলে।
রাত আটটা বাজলে পরে
ভাতের থালা হাতে নিয়ে 
দিদুন আসে চলে।


দই চিঁড়েটা খাই আমি খেয়াল খুশি মতো 
ধরাবাঁধা নিয়ম হলে ভাল্লাগেনা অতো।
ডালি খাওয়া ছেড়ে দিলাম মনোটোনাস বলে
মায়ের সংগে এই নিয়ে তাই রোজ ঝামেলা চলে।

Wednesday, August 7, 2013

ফুল

আজ কলেজ আসার আগে বাবানকে বললাম এসো তোমাকে একটু আদর করে দি। সে আগেই বুঝে গেছে আমি বেরবো। তাই আমাকে বেশিক্ষণ আটকে রাখার জন্য একটা বালিশ এনে দিয়ে বললো পায়ে। পায়ে মানে - পায়ে বালিশ নিয়ে তাতে ওকে শুইয়ে গান গেয়ে ঘুম পাড়ানো। যথাজ্ঞা, বললাম ঠিক আছে এসো। 'মায়াবন বিহারিণী হরিণী' গানটা করতে করতে ঘুম পাড়াচ্ছি, দু মিনিট পরে বললো ফুল ফুল। বুঝতে না পেরে জিজ্ঞেস করলাম কী? আবার বললো ফুল। বুঝতে পেরে বললাম ওওওহ! ফুলে ফুলে?
তখন ফাজলামো করে এক চোখ বুজে এমন একটা অদ্ভুত হাসি দিলো কি আর বলবো - যেটা ওর ফাজলামোটাকে আরো স্পষ্ট করে দিলো।
বোঝা গেলো ও আমার সংগে তখন যতটা পারা যায় ফাজলামোই করতে চাইছিলো। কিন্তু সত্যি বাবানের ওই চাওয়াটা আমাকে স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দেওয়াতে আমার মনটা ভীষণ আনন্দে ভরে গেছিলো। 
এওরকম নানান সব ছোট ছোট তুচ্ছ ঘটনায় সারাদিন মন ভরতে থাকে, কিন্তু সব আর লেখা হয়ে ওঠেনা।

গতকালই তো সে ভাত খাওয়ার আগে একা একা রিমোট এনে টিভি চালিয়েছে। মা বিছানায় বসে ভাত খাওয়ায় বলে ভাতের প্লেটটার নিচে একটা পেপার দিয়ে নেয়। কাল ভুলে গেছিলো বলে বাবান নিজে একটা পেপার এনে দিয়ে মাকে বলেছে উঁউঁউঁ মানে পেপারটা প্লেটের নিচে দাও। চান করার সময়ও এখন একা একা বাথরুমে গিয়ে চান করার সরঞ্জাম রেডি করে। প্রথমে বাথটাবটাকে কলের নিচে রাখে তারপর তাতে দুটো প্লাস্টিকের হাঁস দেয়। বসার পিঁড়িটাকে কাছে টেনে আনে। ঘর থেকে একটা তোয়ালে নিয়ে গিয়ে ডাকতে থাকে। আর একটুও তর সয় না যেতে দেরি হলে অস্থির করে দেয়। কান্নাকাটি শুরু হয়ে যায়। ওপরদিকে হাত বাড়িয়ে তুলে রাখা শ্যাম্পুটা দেখিয়ে বলে শ্যাম্পু  শ্যাম্পু, তাতে আমি কাল হেসেছি বলে রেগে গিয়ে আমায় কামড়ে দিয়েছে। ভানটা এমন যে একে তো দেরি করছো তার উপরে আবার হাসি??

মা নেই বাথরুমে!

আমি বাথরুমে ঢোকাটা বাবানের কাছে কেন নিরাপদ নয় সেটা একদিন মাথায় এলো। আমি কলেজ বা অন্য যেকোনো কোথাও যাওয়ার আগে রেডি হওয়ার জন্য বাথরুমে ঢুকি ও সেটা দেখে। তারপর ওকে অন্য ঘরে নিয়ে গেলে আমি লুকিয়ে বেরিয়ে যাই। বাড়ি ফেরার সময়ও চলে এই পদ্ধতিটা ঠিক উল্টোভাবে। আমি বাড়ি আসার সংগে সংগে বাবানকে লুকিয়ে দেওয়া হয় অন্য ঘরে আমি ফ্রেশ হওয়ার জন্য চট করে বাথরুমে ঢুকে গেলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ন্যাচারালী সে মাকে বাথরুম থেকেই বেরোতে দেখে। ফলে ও ভাবে মা বাথরুমে ঢোকা মানে অনেকক্ষণের জন্য ভ্যানিশ হয়ে যাওয়া তাই আমি বাথরুমে ঢোকাটা ওর কাছে একটা আতঙ্ক, তাই এতো কান্নাকাটি করে।

সেটা থেকে দাঁড়িয়েছে - কেউ বাড়ি নেই মানেই বাথরুমে, এমনকি ওর বাবা ব্যাঙ্গালোর বা দিল্লি গেলে কাঁদতে কাঁদতে বলে বাবা নেই, বাবা বাথরুমে।

বাবানের বাবা একদিন বাবানকে বলছিলো - বাবান তুমি এতো বোকা কেন?  মা বাথরুমে ঢুকলে এতো কাঁদো? এটা বুঝতে পারো না যে মা বাথরুমে ঢোকা মানে তো সবচেয়ে সেফ। মা একক্ষুণি বাথরুম থেকে বেরিয়ে পরবে। ওখান থেকে তো আর কোথাও যাওয়ার যায়গা নেই একটাই তো দরজা। আমি বুঝি কেন সেফ নয়। তাই বাবানকে এই ব্যাপারে বোকা না বলে বেশি বোঝে বলাটাই বোধহয় ভালো।

Monday, July 22, 2013

কোলাভেরি ডি

বাবান আজ তার বাবাকে ফোনে বলেছে - মা বকেছে। আমি অবশ্য এটা বলতে বলেছিলাম, সেটা শুনেই সে বলেছে। রাতে ভাত খাবার সময় iPad নিয়ে এটা সেটা দেখছিল। আমি বললাম - বাবান কোলাভেরি ডি টা চালাও না? বলতেই সঙ্গে সঙ্গে সেটা খুঁজে চালালো। এখন আরো অনেক কথা বলছে। মুনুকে ডাকে - মুনু, এতো! আমি বললাম, বাবান, মুরগির খেলনাটা চালাও। বলতে না বলতেই উঠে গিয়ে সেই খেলনাটা নিয়ে চালাতে শুরু করলো। মোটামুটি এখন বুঝে অনেক কিছু কাজই করে। আজ খুব টায়ার্ড, আর লিখতে পারছি না, ঘুম পাচ্ছে। 

Friday, July 19, 2013

বাবান

জুলাই শেষে বাবানের বয়স হবে পুরো দেড় বছর। সে জুন মাসের মাঝামাঝি থেকেই কিছু ছোট ছোট সেন্টেন্স বলতে শুরু করেছে। ভাত খেয়েছো? চা খেয়েছো? ভালো? ভাত খেয়েছি। আরো কিছু  সেন্টেন্স যেগুলো শুনেই ইমিডিয়েট উচ্চারণ করার চেষ্টা করে সেগুলো স্পষ্ট হয়না তবে বোঝা যায় যে ও ওটাই বলতে চাইছে। 
কাল শুভ (আমার দিদির ছেলে) বাবানকে ডাকছে রুহান রুহান বলে, তাই শুনে বাবান মুনুকে (আমার ভাইঝি ) বলছে দাকছে দাকছে। আমি তাকে বললাম তোমার বাবা দিল্লী  গেছে। সে শুনে বললো - দিল্লী বাবা। এখন যদি জিজ্ঞেস করি বাবা কোথায়? বলে দিল্লী।
বিকেলে বলেছে - আমি ডালি খাব। ডালিয়াকে বলে ডালি। খুব ধীরে ধীরে কেটে কেটে মিষ্টি করে বলেছে। 
গত পরশুদিন রুহানের বাবার জ্বর এসেছে বলে গায়ে চাদর চাপা দিয়ে শুয়েছিল। সেটা বাবান কিছুতে সহ্য করতে পারছিলোনা। সে খুব ব্যস্ত হয়ে গিয়ে বাবার চাদরটা টেনে খুলে দিচ্ছে, মুখে মুখ দিয়ে হামি করে দিচ্ছে, নিজের খাবারটা বাবাকে দিচ্ছে খাইয়ে দেওয়ার জন্য। নিজের জুতো খুজেঁ নিয়ে আসছে বাবা পরিয়ে দেবে বলে। মোদ্দা কথা যতরকম করে পারে বাবাকে active রাখতে হবে। অমন মুখে চাপা দিয়ে শুয়ে থাকলে চলবেনা সেটা তার একটুও ভালো লাগেনা ভীষণ কষ্ট হয়ে যায়।

Saturday, May 18, 2013

আদরের ম্যাও

ছোটবেলায় একটা গল্প শুনেছিলাম, কার কাছে সেটা এখন মনে নেই, তবে গল্পটা এরকম - রামায়ণে সেতুবন্ধনের সময় রামচন্দ্রকে একটা কাঠবিড়ালী তার গায়ের মধ্যে করে বালি এনে দিয়ে সেতু বাঁধতে সাহায্য করেছিল। রামচন্দ্র আদর করে কাঠবিড়ালির পিঠে হাত বুলিয়ে দিয়েছিল এবং সেই থেকেই তাই ওদের পিঠে অমন দাগ। সত্যি এটা গল্প হিসেবে খুবই কিউট একটা গল্প, কিন্তু বাস্তবটা আমার কাছে আরও কিউট। তাই এই গল্পটাকে আমার মনে এনে দিল।

আমার বাড়িতেও এমনই একটা ছোট্ট কাঠবিড়ালি আছে। আমাকে অনেক সাহায্য করে। তবে তাকে কাঠবিড়ালি না বলে এমনি বিড়াল বলাই ভালো কারণ আমি তাকে ম্যাও বলেই ডাকি। এই তো আজ রাতে তাকে ঘুম পারানোর আগে বিছানা ঝাড়ার সময় বললাম ম্যাও বিছানা থেকে চিরুনিটা তুলে নাও। বলা মাত্রই খুব ব্যাস্ত হয়ে চিরুনি তুলে ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ার খুলে তাতে চিরুনি ভরে আবার বন্ধ করে দিল। তারপর বললাম সারা ঘরে জামা কাপড় ছরিয়ে আছে সোনা তুমি ওগুলো তুলে নিয়ে একটু লন্ড্রী ব্যাগে দিয়ে দাওনা। কথাটা শুনেই সংগে সংগে তার নিজস্ব ভংগিতে একটা একটা করে সেগুলো তুলে নিয়ে ব্যাগে রেখে এলো। ব্যাগটা একটু দূরেই রাখা আছে।

এরকম ছোট খাটো কাজ বা সাহায্য সারাদিনে সে এতো করে থাকে যে আমি একটা লেখায় তা ধরাতে পারবো বলে মনে হচ্ছেনা। (তবে বড়দের কাছে যেটা ছোট তার কাছে সেটা ছোট নয়। কারণ সে নিজেই এখন ভীষণ ছোট) আমার কাছাকাছি জলের বোতল না থাকলে সংগে সংগে আমি তো আবদারের গলায় শুরু করি বাবান একটু জল দাওনা। বাবান অমনি হ্যাঁচড় প্যাঁচড় করে এক লিটারের একটা জলের বোতল রান্নাঘর থেকে আমাকে এনে দিলো। তবে এনে দিয়েই সে কিন্তু ক্ষান্ত হয়না, নিজেও মনে মনে একটা গর্ব বোধ করে আর আমার আদরের লোভে গলাটা বাড়িয়ে দিয়ে চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে, আদর করে দিলে লজ্জা পেয়ে হাসতে হাসতে চলে যায়।

সব সময় যে শুধু কাজ করে তা কিন্তু নয়। অকাজও করে। আমি হয়তো বললাম ম্যাও ওলেটা আয়নার পিছনে রেখে এসো। সে সেটা রেখে আরও পাঁচটা জিনিস সেখান থেকে বের করে ঘরের মেঝেতে ছড়ায়। তখন মনে হয় উফফ কেন আমি বললাম! আর নিজের খেলনা ছড়ানোর কথা তো লেখার দরকার আছে বলে মনে হয়না। খেলনাগুলো খেলনার ঝুড়িতে রেখে আসতে বললে ওই একই কাজ করে একটা রাখে আর দশটা....

আজকাল তার সব কথা শোনার পরেই ইমিডিয়েট নকল করা চাই সংগে দু একটা ছোট খাটো সেন্টেন্সেও। পা দিতে নেই। হাত ধুই। ভাত দি। ভাত দিচ্ছি। আইপ্যাড দি। তাই তাই তাই, মামার বাড়ি যাই। এই সমস্ত কথা সে বলে তবে সবই তার মিষ্টি মিষ্টি আধো উচ্চারণে।শুনতে খুব মজা লাগে। যদি বলি ঘুম পারিয়ে দাও। তখন আ আ করে গান করে থাবড়ে থাবড়ে আমাকে ঘুম পারাতে থাকে। কোনো গান শুনলে সেটার সুরটা করার চেষ্টা করে। গান শুনলে অবশ্য না নেচে থাকতে পারে না। বাজনা শুনলেও নাচ হয়ে যায়।

ম্যাও বয়সের দিক থেকে খুব ছোট্ট মাত্র এক বছর সাড়ে তিন মাসের, তা হলে কি হবে, তাকে আমার ছোট্ট ভাবতে ইচ্ছেই করে না। কারণ আমার সমস্ত কথা না হলেও অন্তত  বেশিরভাগ কথাই যেন সে বুঝতে পারে। সে আমার সংগে ফাজলামিটাও করে যেন বুঝে বুঝে। একেবারেই কানাই মাস্টারের বিড়াল ছানা '... আড়ে আড়ে চায় মুখপানে, এমনি সে ভান করে যেন যা বলি বুঝেছে তার মানে।' সত্যি আমার ছানা বিড়ালটাও সেদিক থেকে যেন কোনো অংশে কম যায় না। সে ছোট্ট ছেলে নয়। ছোট্ট একটা মানুষ। তাই তার সংগে সারাদিন আমি খেলা করে, গল্প করে, আনন্দ করে অনায়াসে কাটিয়ে দিতে পারছি। সেও আমাকে আনন্দ দিতে পারে শুধু খেয়ে, ঘুমিয়ে আর কেঁদে দিন কাটিয়ে দেয় না।  সে রীতিমতো বাড়ির একজন এনটিটি। আমার ছোট্ট ম্যাও। সোনা তোমাকে এত্তো আদর আর চুমু উমমাহ!!

Friday, May 17, 2013

মায়া

কতদিন বাবানকে নিয়ে লিখিনি। আসলে একটুও সময় করে উঠতে পারছিনা। এর মধ্যে বাবান অনেক কিছু বলতেও শিখেছে। এক বছর একমাস বয়সের পর থেকেই সে কথা বলার চেষ্টা করতো অল্প অল্প। তার কিছুদিন পর থেকেই যা শুনতো তাই নকল করতো. তবে আজকাল নকলটা সে হুবহু করতে পারে। আমি সকালে বললাম বইয়ে পা দিতে নেই, তাই শুনে সে বইয়ের উপরে উঠে দাঁড়িয়ে জোরে জোরে বলতে লাগলো ' পা দিতে নেই!' জানলার ধারে দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে বলছে আয় আয় টু দিয়ে যা। ওটা আমি শেখাইনি ওর আয়ার কাছ থেকে শিখেছে।
আজ রাতে ঘুমোতে পারছিলো না তাই আমায় ডেকে বলেছে মায়া। মানে মায়াবন হরিণী গানটা শুনে ও ঘুমোতে চায়. গানটা করে দিতেই ঘুমিয়ে গেছে। আমার প্রচণ্ড ঘুম পেয়েছে তাই শর্টকাটে লিখে রাখছি আর পারছিনা.

Wednesday, March 20, 2013

কারিগরি



চেয়ারে একটা স্ক্রু খুলে গেছে বলে আমি লাগাচ্ছিলাম। তখন সে আমার হাত থেকে কেড়ে নিয়ে --- 

Tuesday, March 12, 2013

Thanku

আজ সকালে আমি শুয়ে শুয়ে পড়ছিলাম আর বাবা তখন লন্ড্রি ব্যাগ থেকে আমার বাটিক প্রিন্টের চাদরটা এনে আমার হাতে দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে বলেছে

থ্যাঙ্কইউ --

বলেই মিষ্টি করে হেসে দিয়েছে। তখন আমি আর মা তো হতবাক, আবার একই সঙ্গে আনন্দে আত্মহারা! কি ভালো যে লেগেছে কি বলব। তারপর ধরে এত্তো আদর করে দিয়েছি আমার ছোট্ট সোনাইটাকে। 

Saturday, March 9, 2013

শনিবার সকালে

আমার পাশে আমার ছোট্ট ছেলেটা ঘুমোচ্ছে। হাত পা ছড়িয়ে। দিনের বেলায় ওর ঘুম খুব পাতলা। একটু বেশি আওয়াজ হলেই উঠে পড়বে, আর উঠেই আমার ল্যাপটপের উপর ঝাঁপিয়ে পড়বে। ওকে বুকের মধ্যে নিয়ে ঘুরে ঘুরে গান গেয়ে গেয়ে ঘুম পাড়াই আমি। যখন ও খুব ছোট ছিল তখন থেকেই। আর কারো কাছে ঐ ভাবে বুকের মধ্যে শুতে চায় না। তখন খুবই ছোট ছিল, আমার এক হাতে ওর মাথা, আর এক হাতে ওর পা শেষ হয়ে যেত। এখন এক বছর দেড় মাস। একটু লম্বা হয়ে গেছে। পা টা আর ধরে না, আমার হাতের বাইরে ঝুলে থাকে। গানের তালে তালে সেটা ও দোলায় একটু। তার সঙ্গে নিজেও আআ আআ করে সুর করে গান করে। ধীরে ধীরে চোখ বুজে আসে। তারপর আরো একটু ঘুরি, ঘুমটা একটু গাঢ় হলে সাবধানে বিছানায় শুইয়ে দিই। আজও এমন করেই ঘুম পাড়িয়েছি। হালকা করে পাখাটা চলছে। হাত পা ছড়িয়ে আরাম করে ঘুমোচ্ছে ও।

ওর ঘুমোনোর একটাই গান আছে। অন্য অনেক গান ও পছন্দ করে, কিন্তু আমার কাছে ঐ একটা গান শুনেই ঘুমোতে চায় --

মায়া বন বিহারিণী হরিণী, গহন স্বপন সঞ্চারিণী,
কেন তারে ধরিবারে করি পণ, অকারণ ...
থাক থাক নিজমনে দূরেতে, আমি শুধু বাঁশরীর সুরেতে
পরশ করিব সেই প্রাণমন, অকারণ ... 

Monday, February 25, 2013

আরো একটু বড়

বাবান আমার বইয়ের আলমারি, ছোটো টেবিল, ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ার খুলে সমস্ত কিছু বের করে নিচ্ছে, সারা ঘরে ছড়াচ্ছে।

তাকে জোর করে কিছু করানো যায় না, সেটা করতে গেলে খুব রাগ করে আর বকে দেয়। দিদুনকে তো মারে। রাগ করে নিজের গালে নিজেই চড় ও মারে।

তার একটা খেলনা প্লাস্টিকের ডান্ডার উপর ছোট থেকে বড় হিসেবে রিং সাজাতে হয়। বাবান সেগুলো একটা একটা করে সাজায় আর নিজেই হাত তালি দেয়, কেউ না দিলে। একদিন ডিশ ওয়াশার থেকে একটা বাসন তুলে এনে সেটাকে মেঝেতে রেখে হাত তালি দিলো। যা দেখে তাই নকল করে। কেউ কান পরিষ্কার করলে নিজের কানে আঙুল দেয়।

তবে বকাটা খুব বোঝে। কেউ যদি সোনাইকে বকে, চোখ দেখায়, বা একটু জোরে কথা বলে, তাহলে ঠোঁট ফুলিয়ে খুব দুঃখ করে কান্না হয়ে যায়।

কেউ কলিং বেল বাজালে বা ফোন করলেই বলে "কে?" কে তো বলতে পারে না, বলে "তে?" বলে দৌড়ে যায়, যেখানেই থাকুক। মোবাইল ফোন বাজলে মামা - মামা বলে চিৎকার করতে থাকে। একদিন বলা হয়েছিল মামা ফোন করেছে। 

বাজায় বাজায় বাজায়

বাদল বাউল গানটা একদিন গাইছিলাম, তাই শুনে বাবান হঠাৎ শুরু করল বাজায় বাজায় বাজায় বাজায়। এখন ওই গানটা বা অন্য কোন গানে বাজায় শব্দটা শুনলেই ও সুর করে বাজায় বাজায় বাজায় শুরু করে দেয়। ঘুমের সময় যদি বাবা বাড়ি থাকে তাহলে তার কাছে গিয়ে দাবী করে কোলে নিয়ে ঘুরে ঘুরে গান করে ঘুম পাড়াও। বাবা কোলে নেওয়া মাত্রই ও নিজেই অ্যা-অ্যা করে বাবার থেকেও জোর গলায় গান শুরু করে দেয়। একটু পরেই ঘুম হয়েও যায়। রাতের ঘুমের সেটিং অবশ্য অন্য, সেটা বাবা কোলে নিয়ে গান করলে হয় না, ওটা বিছানায় শুয়ে মায়ের কাছেই ঘুমোতে হয়। 

রান্না

বাটি আর চামচ নিয়ে রান্না করছে, সেটা চামচ দিয়ে তুলে মুখের কাছে নিয়ে গিয়ে মুখে আওয়াজ করে করে খাওয়ার ভান করছে। বাটিটাকে আবার বসিয়েছে একটা গোল রিংয়ের উপর - যে খেলনাটা ওর বৌঠান দিয়েছে তার একটা রিংয়ে। ওটা ওভেন হয়েছে। খাওয়ার ভান করাটা আর রিংয়ে বসানোটা অবশ্য আমি একবার দেখিয়েছিলাম। 

দাঁত

সোনাইয়ের দাঁত উঠলো একটু দেরি করেই. সাধারণত বাচ্চাদের দাঁত ওঠে শুনেছি অন্নপ্রাশনের কিছুদিন পর থেকেই বা কারো কারো তার কিছুদিন আগে থেকেই. বাবানের উঠল ঠিক এক বছর তিন চার দিন বয়সে তাও আবার একটা, উপরের মাড়িতে. সে এখন প্রায় তের মাসের কিন্তু দাঁতের সংখ্যা সেই একটাই. তবে উপর ও নিচের মাড়িতে কিছু সারি সারি সাদা স্পট দেখা যাচ্ছে. সেগুলো দাঁতে পরিণত হতে আরো কিছুদিন লাগবে.
বাবান হাঁটতে শিখেছে একটু তাড়াতাড়িই বলা যায়. আর কথাবার্তা? উফ! বাড়ির সবাই একেবারে তার প্রশ্নে অতিষ্ঠ হয়ে যাচ্ছে! সকালে ঘুম থেকে ওঠাটা তার শুরুই হয় ' কি এতা? কে এতা? ' প্রশ্ন দিয়ে, এবং চলে রাতে ঘুমনোর আগে অবদি.
আইপ্যাড, ফোন, ল্যাপটপ এগুলো হচ্ছে তার হার্টথ্রব. সে আমার আইফোনটা অতন্ত্য সুন্দরভাবে অপারেট করতে পারে. প্রথমে বড় সুইচটা টিপে তারপর স্লাইড করে অন করতে হয়. বাবান সেটা খুব যত্ন করে এবং বুঝে করতে পারে. কিছু কিছু আইকন তার চেনা সেগুলো খুলতে পারলে সে খুশিতে নেচে ওঠে. তারপর গান চালিয়ে দিয়ে তো এমনিই নাচতে থাকে.

টাটা যাওয়া, বিস্কুট খাওয়া এগুলো তার পছন্দের কাজ. অবশ্য শুধু বিস্কুট নয় যেকোনো সলিড খাবার বিশেষ করে বড়রা যেগুলো খায় সেগুলো খুবই পছন্দের. ভাত খাওয়ার সময় মাছটা নিজে দেখিয়ে দেয়, দেরী করলে তর সয় না. এখন একটু হালকা ঠান্ডা তাই টাটা যেতে হলে টুপি মাথায় দিতে হয় বলে টুপিটা নিজেই এনে দেয় বা টুপির কথা শুনলে বলে তাতা তাতা. জুতোকে বলে 'পা', বিছানা থেকে নিচে নামতে হলেই বলে পা পা. লিকুইড জল বা দুধ খাওয়াটায় এখনো সেই কষ্টই রয়ে গেছে, রীতিমতো যুদ্ধ করেই খাওয়াতে হয়. বেদনার রস কিন্তু পছন্দ করে খায়.

আমরা যা কথা বলি তার দু একটা বা মুখে যদি কোনো আওয়াজ করি কিংবা অঙ্গ ভঙ্গি করি বাবান সেটাই নকল করে. আর শুভদাদার সংগে তো রীতিমতো পাল্লা দিয়ে ফাজলামো করে. সে যেন সমবয়সী বন্ধু. এখন দিদুন বা আমি বা কেউ যদি হামি চায় সেটা তার মুডের উপর নির্ভর করে দেবে কি দেবে না!
চোখ, নাক, চুল, হাত পা কই জিগ্যেস করলে দেখাতে পারে তবে সেটাও মুড. চার পাঁচটা বই আছে সেগুলো যখন মন যায় পড়ে এবং মন দিয়ে. বইয়ের ছবিগুলো দেখাটাতেই বেশি ঝোঁক অবশ্য. খবরের কাগজ এখন আর ছেঁড়ে না setao মন দিয়ে পড়ার ভান করে. কার্টুন ছবি বা মুভি দেখতে খুব ভালবাসে. ক্রিকেট খেলাও দেখে. বিজ্ঞাপনও খুব পছন্দের বিষয়. তিনি বিকেলের ঘুম দিয়ে উঠলেন আর লেখা সম্ভব নয়!

Sent from http://bit.ly/hrFXfA

Saturday, February 2, 2013

তোমার জন্মদিন

আমার সোনা বাবান,

তোমার প্রথম জন্মদিন হলেও আমরা খুব একটা জাঁকজমক করিনি ঐদিন। শুধু বাড়ির লোকজন - তোমার দাদান, বৌঠান, কাকুমণি, দুই রাণী, দিদুন আর শুভদাদা। বাইরের লোক বলতে শর্মিষ্ঠামাসি, জয়িতামাসি, তার বর আর মেয়ে ঐশীদিদি।

সকাল থেকে শুভদাদা আর শর্মিষ্ঠামাসি বাড়িটা সাজিয়েছিল বেলুন আর ঝিলমিলে কাগজ আর ফুল দিয়ে। এই সব শর্মিষ্ঠামাসিই নিয়ে এসেছিল। সে তোমাকে এত্তো ভালবাসে, দুষ্টু বলে ডাকে। তুমিও তাকে দুত্তু বলো। রান্না আমি আর তোমার বাবা দুজনে করেছিলাম। আমি আগের দিন রাতে মাছ, মাংস আর মটর পনির রান্না করে রেখেছিলাম। জন্মদিনের দিন সকালে পায়েস, চাটনি আর ফ্রায়েড রাইস বানিয়ে ছিলাম। বিকেলে বাবা বানিয়েছিল বিরিয়ানি আর বড় বড় লংকা ভাজা। আর ছিলো আইস্ক্রিম আর ব্রাউনি, একটা বড়ো চকোলেটের বার্থডে কেক, কিছু চকোলেট আর ম্যাংগো শট।

ঐদিন সবাই আসতে দেরি করেছিল। দাদানরা কি একটা কাজে দেরি করলো, তার উপর সেদিন তারা গাড়িতে না এসে বাসে এসেছিল। বড়রানির দেরি হয়েছিল ট্রেনের গন্ডগোলের জন্য আর ছোটোরানির অফিসের কাজের চাপের জন্য। এমনিতে তোমাকে রোজ বারোটা থেকে সাড়ে বারোটার মধ্যে খাওয়ানো হয়। সেদিন সবাই তখনো এসে পৌঁছতে না পারার জন্য আমি বেলা একটা আবধি অপেক্ষা করে তারপর তোমাকে ভাত খাইয়ে দিয়েছিলাম। বিকেলে পায়েসটা কিন্তু দাদানই খাইয়েছিল। তুমি অনেকটা পায়েস খেয়েছিলে, সবাই অবাক হয়েছিল কারণ তুমি তার আগে কোনো মিষ্টি জিনিস মুখে দিলে খেতে চাইতে না। পায়েসটা তুমি খুব পছন্দ করেই খেয়েছিলে।

সন্ধ্যেবেলা কেক কাটা হলো। তোমার হাত ধরে আমিই কেটে দিলাম। কাটার পরে তোমার মুখে দিতে দেরি হচ্ছিলো বলে তুমি রাগ করছিলে। তাই আমি কাটার ছুরিটা দিয়েই তোমাকে খাইয়ে দিলাম। তোমার কেক খাওয়া দেখেও সবাই হেসেছিল। তুমি খপখপ করে ঐ ক্রিম মাখানো কেকটাও অনেকটা খেয়েছিলে। সারাদিনটাই সেদিন তুমি খুব খুশিতে কাটিয়েছিলে একটুও বায়না করোনি। অনেক রাত অবধি ঐশীদিদির সংগে খেলা করেছিলে।

ঐদিন আমার সবচেয়ে মজা লেগেছিল তোমার কাকুমণির তোমাকে গিফট দেওয়ার ব্যাপারটায়। সে তোমার জন্য তিনটে ক্যাডবেরি এনেছিল, একটা ডেয়ারি মিল্ক আর দুটো ফাইভ স্টার। ব্যাগ থেকে চকোলেটগুলো বের করে আমাকে দেখালো।  তুমি খেতে পারবে কিনা জিগ্যেস করলো। বললাম বড়টা পারবে, ছোটোগুলো পারবে না। তখন 'আমারো তাই মনে হয়েছিলো বলে চট করে ছটো ফাইভ স্টার দুটো ব্যাগে ঢুকিয়ে নিয়েছিলো।

Friday, January 25, 2013

সোনাই এখন যা যা পারে

সোনাই এখন যা যা পারে
কেউ বাইরে গেলে বা তাকে নিয়ে কেউ ঘুরতে গেলে বলে টাটা!
যদি বলি হামি দাও বা আদর করো তাহলে সে তার ভঙ্গিতে নাক খেয়ে আদর করে দেয়.
কিছু আনতে বললে যেমন তার গাড়ি, সাইকেল, ব্যাট, বল, আমার মোবাইল এছাড়াও
তার কিছু খেলনা যেগুলোর সঙ্গে সে পরিচিত সেগুলো এনে দেয়!
জল খেতে বললে সেটা শোনা মাত্রই বলে আঃ!
জুতোকে বলে পা, তাই জুতো পরতে হবে বললেই পা পা করে অস্থির করে দেয়!
দাদা, বাবা, মামা, দিদি, মামমা এগুলো সে বুঝে ডাকে!
ফোনেও কথা বলার সময় ফোনের অন্য পাড়ের লোকের অনেক কথাই বুঝতে পারে! কিছু
কথা আবার শুনে নকলও করে তখন!
চা দেখলেই বলে চা, বিস্কুট এর কৌটো দেখলেই খুশিতে চোখ জ্বল জ্বল করে ওঠে
এবং সঙ্গে সঙ্গে চাইতে শুরু করে দিতে দেরি হলে জোরে জোরে চিতকার আরম্ভ
করে দেয়! সেটা অবশ্য যেকোনো খাবার দেখলেই, বিষেশ করে বড়দের খাবার!
কোনো জিনিসে যদি হাত না পায় সেটা আনার কৌশলও সে পারে যেমন বলটা ব্যাট
দিয়ে আনা, বিস্কুট আনতে হলে আগে ট্রেটা ধরে টেনে নেওয়া! এইসব পদ্ধতি!
ন্যাপি বদলাতে বললে নিজে সঙ্গে সঙ্গে মুখে টান টান বলতে বলতে টান টান হয়ে
শুয়ে পড়া!

Wednesday, January 23, 2013

রুহানের চিঠি

প্রিয়
দাদান, বৌঠান এবং কাকুমণি,
৩১ শে জানুয়ারি বৃহস্পতিবার আমার জন্মদিন! আমার মা- বাবা জন্মদিনে আমাকে অনেককিছু রান্না করে খাওয়াবে! তাই আমি চাই ওইদিন তোমরা সবাই আমার সঙ্গে আমাদের বাড়িতে এসে খাবে! আসা চাই চাই চাই নইলে আড়ি আড়ি আড়ি!
দাদান তুমি তো খুব ব্যাস্ত থাকো, তাই তোমাকে বলছি -

ছোট্ট রুহান পায়েস খাবে
দাদান এলে পরে,
রানীরা সব উলু দেবে
ঠোঁটটি গোল করে!
দাঁড়িয়ে থেকো আমার পাশে
আশিষ নিয়ে সাথে,
খাওয়া হলেই খেলবো আমি
রয়েছি এই আশে!
ব্যাট বলটি দোকান থেকে
দিয়েছে কিনে বাবা,
তুমি আমি খেলবো মিলে
তাতেই হবে মজা!!
ইতি
তোমাদের আদরের ছোট্ট রুহান!

Friday, January 18, 2013

মামমা

আজ সোনাই খেলতে খেলতে এসে আমাকে মাঝে মাঝেই মামমা বলে ডেকেছে! আমি ওকে মামমা বলি তো তাই সোনাইও আমাকে মামমা বলে! মামমা কথাটা ও আগেও বলতো, তবে বেশ কয়েকদিন হলো ও 'মামমা' কথাটা বুঝে বলছে! আজকাল ও অনেক কথাই বুঝে বলে! বাবা, দাদা, দিদু, পা, বল এইসব আরো কিছু কিছু কথা এছাড়াও ও যা শোনে তাই নকল করার চেষ্টা করে!

কোনো নতুন জিনিস দেখলেই সঙ্গে সঙ্গে কি এটা? এই যে, আজকাল আবার হয়েছে দুদিকে ঘাড় নাড়িয়ে স্পষ্ট করে না না বলে 'না' কথাটা বুঝিয়ে দেওয়া! খুব মিষ্টি লাগে তখন! বাবান এর চেনা-জানা জিনিস দেখিয়ে আনতে বললে বাবান সেটা এনে দেয়, দেওয়ার পর থ্যাঙ্ক ইউ বললে ও খুশি হয়ে একগাল হেসে দেয়!

সোনাই এর বাবা যদি আমায় ফোন করে তাহলে সে ফোনে আমার আর কোনো অধিকার থাকে না, বায়না করে হাত থেকে কেড়ে নিয়ে নিজে বাবা বাবা করে ঘুরে ঘুরে কথা বলে, নানা ধরনের মনের কথাও উতফুল্ল  হয়ে বলা হয়ে যায়! বলার সময় উতসাহে খুশিতে মুখ দিয়ে নাল- জোল বেরিয়ে যায়! আমার দেখতে ভীষণ মজা লাগে! তবে শুধু বাবার ফোন নয় যে কেউ ফোন করলেই স্পিকার অন করে আমাকে তার জিম্মায় দিয়ে দিতে হয়!

আস্তে আস্তে সোনাই এইভাবেই আমাদের চোখের সামনে একদিন বড় হয়ে যাবে! এখনো তার একবছর বয়স হয়নি, একবছর হতে আর মাত্র কটাদিন বাকি! সেটাও দেখতে দেখতে এসে গেল! এখন আর লেখা সম্ভব নয়! সে এসে গেছে এবং ভীষণভাবে আমাকে চাইছে! লিখলে খুব রাগ করছে!

Sunday, January 13, 2013

পৌষ পার্বণ

আজ সে সকালে উঠেই আমার মাথার কাছে বসে আমার মুখে মুখ দিয়ে চারটে হামি করে আমাকে এত্ত আদর করে ঘুম ভাঙিয়ে দিয়েছে! তারপর এত্ত খেলা খেলা করে ঘুম. বাকি দিনটা রুটিন মাফিকই চলেছে তবে আজ বিকেলে সে একটা মালপোয়া খাওয়াতে সন্ধ্যের দুধ স্কিপ করে একেবারে রাতে তাকে ভাত খাইয়েছি! মালপোয়া খাওয়ার খুশিটা একটা ক্লিক এ ধরে রাখতে আলস্য করিনি. দাদান বৌঠান এর সংগেও আজ বাবান খুব মজা করেছে! সন্ধ্যেবেলা আমার মুখটা হাঁ করিয়ে একটা পেন ঢোকানোর যথাসাধ্য চেষ্টা করেছে আমি সাহায্য না করায় আমাকে খুব বকা দিয়ে নিজে রাগ করে ফেলেছে! সরাদিন তার দুষ্টুমি আর একগাল মিষ্টি হাসিতেই আমারও দিন আর রাত কেটে যায়.
আজ সোনাই দাদান আর বৌঠানের সংগে handshek করে লজ্জা লজ্জা করে হেসে শুরুতে ভাব করেছে. বাবান কাল খুশি হয়ে আমার মুখটা এমন আঁচর দিয়েছিল আজ তার দাগগুলো স্পষ্ট হয়ে গেছে! একটু আগে সোনাই ঘুমের মধ্যে কেঁদে উঠেছিল, মনে হয় দুঃস্বপ্ন দেখেছিল! আদর করে দিতে আবার ঘুমিয়ে গেছে.

Thursday, November 29, 2012

দশ মাসে ছোট্ট সোনাই

আর একদিন পরেই বাবানের দশ মাস পূর্ণ হয়ে যাবে। এর মধ্যে সে অনেক কিছু নতুন জিনিস শিখেছে। তার দাবীগুলোও আরো জোরালো হয়েছে। জেদ বেড়েছে। আমি বা কেউ তাকে যদি বকা দিই সেও উল্টে বকে দেয়। এখন যা কিছু দেখে সবই নকল করতে চায়। এমনকি টিভিতে যা দেখে সেগুলোও। অনেক কথা বলার চেষ্টা করে, তার মধ্যে কিছু কিছু বোঝা যায় - পিকু, তোতো, ভাই, বাবা, বল, বই, ব্যাং, বাঘ।  আজ সকালে সে বিস্কুট দেখে উল্লাসে লাফিয়ে উঠে "মা কুট" বলে চিৎকার করে দৌড়ে এসেছে। কাল সোনাই তার দাদানের পা দুটো ধরে দাঁড়িয়ে ছিলো বাইরে ঘুরতে নিয়ে যেতে হবে বলে। কিছুতেই ছাড়ছিলো না, তারপর শেষে বাবা লুকিয়ে বাইরে গেলেন।

সোনাই জুতোকে বলে পা, মোজাটা দেখতে পেলে নিজেই নিয়ে আসে। নিজের জামা প্যান্ট গুলো নিয়ে খেলতে খুব পছন্দ করে। নতুন জামা পরিয়ে দিলে খুব খুশি হয়ে ভাবে আমরা কোথাও বেড়াতে যাবো। এখন হাঁটাটা stable হয়ে এসেছে, খুব একটা টলমল করে না, অনেকটা দূর অবধি হাঁটতে পারে। যখন কোন জিনিসের কাছে তাড়াতাড়ি পৌঁছনো দরকার, তখন হাঁটা ছেড়ে হামাগুড়ি দিয়ে নেয়। নিজের চিরুনি বা ব্রাশটা পেলেই আগে চুল আঁচড়ে নেয়। আয়না দেখে আঁচড়াতে বললে সঙ্গে সঙ্গে তাই করে। কাছে যে থাকে তারও চুল আঁচড়ে দেয়।

দিদুনের কাছেও তার কিছু দাবী আছে। রোজ সকালে কোলে নিয়ে ঘুরে ঘুরে দেয়ালে টাঙানো তার ছবিগুলো দেখাতে হয়। আমি ন্যাপি বের করলে টানটান হয়ে শুয়ে পড়ে, জানে মা চেঞ্জ করাবে। রাতে মশারি টাঙিয়ে দিয়ে শুয়ে পড়তে বললে শুয়ে নিজেই গান করতে করতে বা খেলতে খেলতে ঘুমিয়ে যায়। তবে পাশে আমাকে থাকতে হয়। হয়ত ওর বাবা বা দিদুন থাকলেও চলবে।

সোনাই সবথেকে বেশি যেটা বোঝে তা হল - আমি কারো কাছে ওর গল্প করছি। তখন সে আমার দিকে সুন্দর করে তাকায় আর একটু লজ্জা পেয়ে মিষ্টি মিষ্টি করে হেসে দেয়। বাড়িতে লোক এলে খুব ভাল লাগে, তাদের সঙ্গে খেলা করে। তবে তারা যাবার সময় ঝামেলা করে, তাই তাদের লুকিয়ে যেতে হয়। আজকাল হাত নেড়ে টাটা বলতে শিখেছে। বাবা অফিস যাবার সময় টাটা করে। কাল দাদান আর বৌঠান যাবার সময় সুন্দর করে টাটা করেছে, তারাও খুশি হয়েছে। আমার সঙ্গে ওর নানা ধরণের খুনসুটি আছে। আজকাল সকালে উঠে আর হামি করে না, রাতে ঘুমোনোর সময় হামি করে দেয়। আমি বকলে হামি করে দেয়, বাবাকে বা খুব চেনাদেরও হামি দেয়, আদর করে দেয়। এই হল আমার দশ-মাসের ছোট্ট সোনাই। 

Friday, November 2, 2012

ন-মাস বয়সে

বাবানের বয়স গত পরশু ন-মাস পূরণ হয়েছে, সাড়ে আট মাস বয়েস থেকেই সে এক পা দু পা তিন পা ফেলতে শিখেছে। এখনো তাই, তার বেশি পারে না। কিন্তু কোনো কিছু ধরে হেঁটে বা হামাগুড়ি প্রচন্ড স্পিডে মূহুর্তের মধ্যে সে গোটা বাড়িটা ঘুরে ফেলতে পারে। মাস খানেক আগে থেকেই সে বাবা, মা, গিগি বলতো, এখন নতুন শিখেছে ভাই, তিত-তিত-তিত, আরো এটা সেটা নতুন আওয়াজ। ভাই কথাটা সে পূজোয় মামাবাড়ি গিয়ে জিশাদিদির থেকে নকল করেছে, জিশা তাকে ভাই বলে তো, তাই। এছাড়াও সে এখন যাকে যা কিছু করতে দেখে তাই নকল করার চেষ্টা করে। আজ দু-দিন হল খাট থেকে নিজে নিচে নামার চেষ্টা করেছে। সব থেকে বেশি ভাল পারে যেটা, সেটা হল কোন জিনিস চেয়েও না পেলে বিছানায় শুয়ে পড়ে হাত পা ছুঁড়ে কান্না। জেদটা খুব বেশিই হয়েছে দেখছি। কোনো জিনিস চাই-টা এত স্পষ্ট যে না পেলেই দুঃখ হয়ে যাচ্ছে। ঠোঁট ফুলিয়ে কান্নাটাও দারুণ শিখেছে।

দিন দশেক আগে থেকে দু-বেলাই ভাত খেতে দিচ্ছি। ভাতটা পছন্দ করে খায়, কিন্তু ঝিনুক দিয়ে জল বা দুধ খাওয়াতে খুব হিমশিম খেতে হয় আমাদের। সোনাইয়ের শরীরটা মামাবাড়ি থেকে ফিরে অবধি ভালো নেই, ওখানে গিয়ে ঠান্ডা লেগে একটু জ্বর সর্দি হয়েছে। সোনাটা কবে যে সুস্থ হবে!

Monday, September 17, 2012

কষ্ট

আজ সোনাইকে ভাত খাওয়ানোর সময় এত কষ্ট দিয়েছি যে ভাবতেই পারছি না। সোনাই খুব কেঁদেছে। ওর ঐ করুণ কান্নার মুখটা মনে পড়লে নিজের উপরেই রাগ হচ্ছে। মনে হচ্ছে - কি করে আমি এত নিষ্ঠুর হয়েছিলাম। সোনাই বার বার আমার কোলে আসতে চাইছিল রকার থেকে, তবুও আমি নিইনি, উল্টে ওকে খুব বকা দিয়েছি। তাতে সোনাই এত কেঁদেছে আর কষ্ট পেয়েছে যে থামতেই চাইছিল না। আমার এক হাতে ভাতের থালা ছিল, আমি কোলে নিয়ে খাওয়াতে পারতাম না, তাই কোলে নিতে চাইনি। আমার কিছু করার ছিল না বলেই সোনাইকে এত কষ্ট দিয়ে ফেলেছি, নিজেকে কেমন অসহায় লাগছিল। সরি সোনাই আমি আর তোমাকে কষ্ট দেবো না। তোমাকে কষ্ট দিয়ে আমারো খুব কষ্ট হয়ে যায়। তুমি আজ খুব কষ্ট পেয়েছো আমি জানি, তোমার ঐ মুখটা মনে পড়ে আমার খুব কষ্ট হয়ে যাচ্ছে সোনা, আমি ঘুমোতে পারছি না। আসলে সবসময় সব কিছু সামলানো যায় না, তাই এমন ভুল হয়ে যায়। পরিস্থিতি যেমনই হোক নিজেকে নিজেই সামলাতে হবে। বাবান তোমাকে আমি এত্তো ভালবাসি সোনা, এত্তো আদর, সবসময় তোমার জন্যে এত্ত আদর।

Sunday, September 2, 2012

সোনাই

সোনাই ঠিক সাড়ে ছ মাস বয়স থেকে খুব সুন্দরভাবে ধরে দাঁড়াতে পারে, উঠে দাঁড়াতো ও অনেক আগে থেকেই কিন্তু তখন দাঁড়ানো টা ঠিক stable দেখাতো না sourport লাগতো. এখন সে তো তার কাছে দাঁড়ানোটা কোনো ব্যাপারই না এমনকি দিন পনেরো আগে থেকেই সে খাটের বেড় ধরে অনায়াসে হেঁটে এদিক থেকে ওদিক, ওদিক থেকে এদিক করে. খাট থেকে ঝুলে নিচ থেকে আমার চটি, জলের বোতল অর্থাৎ যা থাকে তাই তলার চেষ্টা করে. সোনাই এর আর একটা মজার জিনিস হলো আমি ঘুম থেকে উঠে চোখ খুললেই এক গাল হেসে আমার মুখে মুখ দিয়ে চুমু করা,যেটা আমার কাছে পৃথিবীর সেরা পাওনা. সোনাই আমি ভালোভাবে ঘুম থেকে ওঠার ঠিক ঘন্টা খানেক আগে উঠে আপন মনে ওর খেলনাগুলো নিয়ে খেলতে থাকে আর আমি আধবোজা চোখে ওকে পাহারা দি, তারপর আমি উঠে সোনাই আয় বললেই কাছে এগিয়ে এসে এক গাল হেসে মুখে মুখ দিয়ে হামি করে আদর করে দেয়.

Wednesday, August 22, 2012

পুরী

ছ-মাস আঠেরো-দিন বয়সে সোনাই পুরী ঘুরে এলো আমাদের সবার সঙ্গে। আমরা গাড়ি নিয়ে গিয়েছিলাম। পুরো ট্যুরটায় সোনাই কোনো ঝামেলা করেনি। শুধু আমার দুদিন চান এর সময় খুব কান্না কাটি করেছে। শেষদিন রাতে হোটেলে ডাল দিয়ে ভাত খেয়েছে খুব লাফালাফি করে। ঐদিন হোটেলের সবাই বাবানকে নিয়ে খুব মজা করেছে।



Friday, August 17, 2012

ধরে দাঁড়ানো

বাবন তার ছ-মাস বয়স থেকে কোন কিছু ধরে একা একা ভাল ভাবে দাঁড়াচ্ছে। সপ্তাহখানেক হল সে উঠে দাঁড়িয়ে একটা হাত ছেড়ে দিচ্ছে, আর দুটো হাত ছেড়ে দেবার চেষ্টা করে। কিন্তু দুটো হাত ছেড়ে দিলেই সে ধপ করে পড়ে যায়।

Friday, August 10, 2012

হামাগুড়ি

গতকাল থেকে সোনাই হাত পা টেনে হামাগুড়ি দিতে শুরু করেছে, ঠিক ছ-মাস ন-দিন বয়স থেকে। 

Wednesday, June 20, 2012

দুই রাণী

রাজা রুহানের দুই রাণী। দুই রাণী যখন, একজন বড়রাণী, একজন ছোটরাণী। শুধু তাই নয়, গল্পে যেমন হয়, দুই রাণী নিজেরা আবার দুই বোনও বটে। ফলে বোঝাই যাচ্ছে রাজাবাবুকে নিয়ে দুই রাণীর মধ্যে একটু ইয়ে আছে।

গল্পে যেমন হয়, বড়রাণী ছোটরাণীর তুলনায় একটু চুপচাপ। রাজাকে একটু বেশিই সম্মান করে চলে। রাজাকে ভয় পাবার ভানটা অন্তত করে। ছোটরাণীর দুষ্টুমি বেশি, রাজার সাথে সমানে সমানে চলে। রাজা বকা দিলে সেও উল্টে বকা দেয়।



Tuesday, May 15, 2012

উপুড় হওয়া

Exactly সাড়ে তিন মাসে সোনাই নিজে নিজে উপুড় হতে শিখলো, আজ ভোররাত থেকে। আমি এক ঘুমের পর উঠে দেখি ও উপুড় হয়ে মুখ গুঁজে ঘুমোচ্ছে। আমি সোজা করে দিয়েছি। তারপর বহুবার চেষ্টা করেছে। দুপুর বেলা আমরা তার এই উপুড় হবার একটা ভিডিও করলাম।

Wednesday, May 9, 2012

হো হো করে হাসি

গতকাল রাতে সোনাই হো হো করে হেসেছে। ওর বাবা ওকে গান শোনাচ্ছিলো, সে গান শুনতে শুনতে বহুবার হো হো করে জোরে জোরে হেসেছে। বিকেলে যখন ওর রাণীরা এসেছিল তখন তাদের দেখে একটু মুড অফ হয়ে গেছিল, কারণ তারা অনেকদিন পর এল, ও তাদের চিনতে পারেনি। 

Monday, May 7, 2012

সোনাই দাদা হল

আজ সোনাই দাদা হলো তিন মাস বয়সে। ওর শিঙ্কু মামার মেয়ে হয়েছে। ওর ছোটো মামার মেয়ে ওর থেকে সাত মাসে বড়। আর অহনা হল তিন মাসের ছোট। 

Wednesday, April 25, 2012

তুই হেসে উঠলেই

"তুই হেসে উঠলেই সূর্য লজ্জা পায়,
আলোর মুকুটখানা তোকেই পরাতে চায়।"
ছোট্ট বুড়ো বুড়ো এখন খুব মিষ্টি করে হাসে। রোজ সকালে প্রথম চোখে চোখ পড়লেই একগাল হেসে দেয়।




এখনো তো ও উপুড় হতে পারে না। কিন্তু আমরা ওকে রোজ দু-একবার করে উপুড় করে দিই। পড়ে দেখলাম, এই tummy time টা নাকি দরকার - আমাদের জানা ছিল না। ঘাড়টা ওর প্রথম মাস থেকেই প্রায় শক্ত, তাই উপুড় করে দিলে ঘাড় উঁচু করে এদিক ওদিক দেখে ও কিছুক্ষণ। কয়েক মিনিট পরে একটু হাঁপিয়ে যায়, তখন আবার আমরা ওকে শুইয়ে দিই। উপুড় হয়ে থাকতে ও খুব পছন্দ করে। উপুড় হয়ে অনেক বেশি দেখা যায়, সবকিছু সোজা দেখা যায়। তাই না? 




বাবার সাথে সাথেঃ বড় বাঘ, ছোট বাঘ। 

Monday, April 16, 2012

রুহানের পয়লা পয়লা বৈশাখ

পয়লা বৈশাখ।

রুহানের মা খুব উৎসাহী। তাই আমি ছোট্ট রুহানের জন্যে নিয়ে এলাম একটা পাঞ্জাবী আর ধুতি। মা পরল শাড়ি, আর ছেলে পরল ধুতি পাঞ্জাবী। রুহান ঠিক আড়াই মাসের এখন।



Wednesday, April 4, 2012

প্রথম বার সোনাইকে ছেড়ে

আজ সোনাইকে ছেড়ে প্রথম বাইরে বেরোলাম। ভীষণ মন খারাপ আর ফাঁকা ফাঁকা লাগছে। আমি আর ওর বাবা দুজনে যাচ্ছি আমার কলেজে একটা দরকারে।

Sunday, April 1, 2012

The moments of little Ruhan

রুহানের প্রথম দুমাসের কিছু মূহুর্ত ...

Saturday, March 31, 2012

দ্বিতীয় মাস

মায়ের সাথে রুহানের অনেক খুনসুটি। মাকে তার সারাক্ষণই চাই। মায়ের চোখে চোখ রেখে, নাকে নাক রেখে সে পাল্লা দেয়। মাকে একটুও না পেলেই ঠোঁট ফুলিয়ে কান্না হয়ে যায়।







দাদান, বৌঠান আর রাণীরা এসেছে ছোট্ট রুহানকে দেখতে। তাদের কোলে কোলে কিছু ছবিও হয়েছে। 



সুজিমাসিকেও রুহানের বেশ পছন্দ হয়েছিল। সুজিমাসি বাবা মার সাথে রুহানের কয়েকটা ছবিও তুলে দিয়েছে।