আজ দুপুরে বাবানকে পেয়ারা খাওয়ানোর সময় আমি বললাম পাখির ছানারা কি করে খায় জানো? বললো না। আমি বললাম ছানাটা হাঁ করে থাকে আর মা পাখি এসে মুখে দিয়ে দেয়। আমি পেয়ারার একটা টুকরো ঠোঁটে চেপে ধরে ওকে দেখিয়েছিলাম, ও এসে আমার মুখ থেকে নিয়ে নিয়েছিলো। আমি বললাম পাখির ছানার খাওয়ার ছবি দেখবে? হ্যাঁ দেখবো। বলেই আর তর সইলো না, বই দাও, বই দাও করে পাগল করে দিলো। বললাম - বাবাকে বলো পাখির বই দুটো বের করে দিতে। দৌড়ে গেলো বাবার কাছে। মনে উত্তেজনা থাকলে বাবান এতো দ্রুত কথা বলে যে, তার কথা বোঝা একটু কঠিন হয়ে পড়ে সবার কাছে। যথারীতি, তার বাবার কাছেও তাই হলো। সে অন্য ঘর থেকে এসে আমাকে জিজ্ঞেস করলো - কি বই গো? বললাম “ পাখি আর পাখি, পাখির ছড়া “ এই দুটো। বই এনে আমাদের পাখির ছবি দেখা শুরু হলো।
এক এক করে আমরা টিয়া, ময়না, শালিক, পায়রা সব ছবি দেখতে থাকলাম। মোরগ-মুরগি পাশাপাশি থাকায়, আমি বোঝালাম - মোরগ মানে ছেলে, মুরগি মানে মেয়ে। দেখো মুরগির কাছে তার ছোট্ট ছানাগুলো আছে। মুরগি ওদের মা। মোরগ বাবা। মোরগের মাথায় ঝুঁটি থাকে, মুরগির মাথায় থাকে না। এরপর এলো ময়ূর-ময়ূরী। সেটাও বোঝালাম - কার পেখম থাকে আর কার থাকে না। তারপর বাবান নিজেই পাতা উল্টে উল্টে দেখতে থাকলো। হঠাৎ দুটো বকের ছবি দেখিয়ে আমাকে ডেকে, কিছু বলার অবকাশ না দিয়েই বলে উঠলো - মা এই দেখো, এটা বক আর ওটা বকি। আমি প্রথমে দু সেকেণ্ড মতো থতমত খেয়ে গেছিলাম, তারপর ব্যাপারটা বুঝেই হো হো করে হাসতে শুরু করে ওর বাবাকে ডাকলাম। বাবা এসে শুনেও খুব হাসলো। তাতে বাবানও খুব আনন্দ পেয়েছে। ও যে মজার একটা কথা বলেছে সেটা বুঝেই, বাবান খুশি হয়ে হেসেছিলো।
পরে পিসিভাইকে যখন বলেছিলাম - সে শুনে বলেছিলো, ঠিকই তো। চখা যদি চখি হয়, বক তো বকিই হবে। ও ঠিকই বলেছে।
No comments:
Post a Comment