চোদ্দই নভেম্বর। শিশু দিবস। সেদিন বাবানের বয়স ছিলো দু বছর, দশ মাস, চোদ্দ দিন। আমি আর ওর বাবা তৈরি হচ্ছিলাম যে যার কাজে বেরোবো বলে। বাবান নিজের মনে দিদুনের পাশে বসে আইপ্যাড নিয়ে খেলছিলো। দিদুন বললো ধুর! ভাল্লাগেনা! বাবা- মা সারাদিন চলে যায়, শুধু তুমি আর আমি, মনটা খারাপ হয়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে বাবান বললো - মন খারাপ কোরোনা দিদুন। একদম মন খারাপ করতে নেই! আমি তো আছি। বাবা মা ঠিক চলে আসবে। বলে দিদুনের মুখে হাত দিয়ে দুটো গাল ধরে আদর করে দিয়েছিলো। তখন মনে হলো বাবানকে কি ছোট্টো শিশু বলা যায়? সত্যিই বাবান আর সেই ছোট্টো শিশু নেই।
ঠিক তার আগের রাতেই দিদুন (আমার মা) গল্প করছিলো - "বাপরে আগে ওকে রাখতে কি কষ্ট হতো! তুই চলে যাওয়ার পর ঘুমিয়ে ঘুমিয়েও ফোঁপাতো। ঘরের দরজা বন্ধ করে লুকিয়ে নিলে তুই কলেজ যেতে পারতিস। আর এখন ঘুম থেকে উঠেই বাবান বলে - মা তুমি কলেজ চলে যাও। আমি দিদুনের কাছে থাকবো। দিদুনের সঙ্গে খেলা করবো। একটুও দুষ্টুমি করবো না, একদম ঝামেলা করবো না। ভালো ছেলে হয়ে থাকবো।" তবে মুড ভালো থাকলে, ঘুম ভালো হলে, তবেই এই কথাগুলো শোনা যায়। না হলে উঠেই একটু ঝামেলা করে নেয়। "তুমি একদম কলেজ যাবেনা। আমার কাছে থাকবে। শুধু বাবা ইন্সটিটিউট যাবে।" আবার উল্টোটাও হয়। যদি আমার ওপর কোনো কারণে রাগ হয়ে থাকে - "বাবা একদম যাবেনা। শুধু তুমি যাবে।"
আমার কলেজ যাওয়াটা বাবান এখন পছন্দই করে। আমি চলে গেলে মাঝে মাঝে ওর বড়োরাণী আসে। কখনো সখনো ছোটোরাণীও। তাতে খুব মজা! সারাদিন খেলা খেলা আর খেলা। পুজোর ছুটিতে একমাস টানা ছুটি থাকায় বড়োরাণী আসছিলো না। বাবান বোর হয়ে যাচ্ছিলো। রাণীকে খুব মিস করছিলো। তাই আমাকে একদিন বলেছিলো তুমি কলেজ চলে যাও। তখন দিদুনও ছিলো না। বাড়ি চলে গেছিলো। বুঝেছিলাম - আমি কলেজ গেলে তবে ও খেলার সাথীদের পাবে। না হলে সম্ভব না।
No comments:
Post a Comment