Wednesday, August 7, 2013

ফুল

আজ কলেজ আসার আগে বাবানকে বললাম এসো তোমাকে একটু আদর করে দি। সে আগেই বুঝে গেছে আমি বেরবো। তাই আমাকে বেশিক্ষণ আটকে রাখার জন্য একটা বালিশ এনে দিয়ে বললো পায়ে। পায়ে মানে - পায়ে বালিশ নিয়ে তাতে ওকে শুইয়ে গান গেয়ে ঘুম পাড়ানো। যথাজ্ঞা, বললাম ঠিক আছে এসো। 'মায়াবন বিহারিণী হরিণী' গানটা করতে করতে ঘুম পাড়াচ্ছি, দু মিনিট পরে বললো ফুল ফুল। বুঝতে না পেরে জিজ্ঞেস করলাম কী? আবার বললো ফুল। বুঝতে পেরে বললাম ওওওহ! ফুলে ফুলে?
তখন ফাজলামো করে এক চোখ বুজে এমন একটা অদ্ভুত হাসি দিলো কি আর বলবো - যেটা ওর ফাজলামোটাকে আরো স্পষ্ট করে দিলো।
বোঝা গেলো ও আমার সংগে তখন যতটা পারা যায় ফাজলামোই করতে চাইছিলো। কিন্তু সত্যি বাবানের ওই চাওয়াটা আমাকে স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দেওয়াতে আমার মনটা ভীষণ আনন্দে ভরে গেছিলো। 
এওরকম নানান সব ছোট ছোট তুচ্ছ ঘটনায় সারাদিন মন ভরতে থাকে, কিন্তু সব আর লেখা হয়ে ওঠেনা।

গতকালই তো সে ভাত খাওয়ার আগে একা একা রিমোট এনে টিভি চালিয়েছে। মা বিছানায় বসে ভাত খাওয়ায় বলে ভাতের প্লেটটার নিচে একটা পেপার দিয়ে নেয়। কাল ভুলে গেছিলো বলে বাবান নিজে একটা পেপার এনে দিয়ে মাকে বলেছে উঁউঁউঁ মানে পেপারটা প্লেটের নিচে দাও। চান করার সময়ও এখন একা একা বাথরুমে গিয়ে চান করার সরঞ্জাম রেডি করে। প্রথমে বাথটাবটাকে কলের নিচে রাখে তারপর তাতে দুটো প্লাস্টিকের হাঁস দেয়। বসার পিঁড়িটাকে কাছে টেনে আনে। ঘর থেকে একটা তোয়ালে নিয়ে গিয়ে ডাকতে থাকে। আর একটুও তর সয় না যেতে দেরি হলে অস্থির করে দেয়। কান্নাকাটি শুরু হয়ে যায়। ওপরদিকে হাত বাড়িয়ে তুলে রাখা শ্যাম্পুটা দেখিয়ে বলে শ্যাম্পু  শ্যাম্পু, তাতে আমি কাল হেসেছি বলে রেগে গিয়ে আমায় কামড়ে দিয়েছে। ভানটা এমন যে একে তো দেরি করছো তার উপরে আবার হাসি??

No comments:

Post a Comment