Tuesday, October 8, 2013

সেন্টেন্স

বাবান মাস খানেক আগে থেকেই সেন্টেন্স বলতে শুরু করেছে। এখন সেটা আরো স্পষ্ট হয়েছে। মোটামুটি বেশিরভাগ কথাই ও বুঝতে পারে। মাঝে মঝে নিজের থেকে খুব সুন্দর সুন্দর কথা বলে। একদিন ও সীতাভোগ খাচ্ছে, আমি জিজ্ঞেস করলাম কী খাচ্ছো সোনা? প্রথমে বললো বাত তারপর বললো মিত্তিবাত। ও ভ - টাকে ব বলে। এইরকম নানান ধরনের কথা ও বলে সব লেখা হয়নি তাই অনেক কথাই ভুলে গেছি।

এখন একটা বড় কাজ হল আমাকে বা ওর বাবাকে কিছু খেতে দেখলে সেটা খাইয়ে দেওয়া। সংগে সংগে বায়না করে আমাদের হাত থেকে চামচ নিয়ে বলে খাইয়ে দিচ্চি, বলে খাওয়ায় আর প্রতিটা চামচ মুখে দিয়েই জিজ্ঞেস করে ভালো? একটু আগেও তাই করলো, আমি দুধ কর্নফ্লেক্স নিয়ে  বসেছিলাম আমার থেকে নিয়ে আমাকে কিছুটা খাইয়ে দিয়ে বাকিটা নিজে খেলো সম্পূর্ণ একা। ওই বড় চামচ সামলে গুছিয়ে সুন্দর করে একটুও নষ্ট করেনি। শুধু দুধ পড়ে প্যান্টটা একটু ভিজে গেছে।
কিছু কিছু প্রশ্নের উত্তরও দেয় ঠিক ঠিক। বাবা কোথায় যায়্‍, মা কোথায় যায়, তোতো কোথায় থাকে, তাতা কোথায় থাকে? এইধরনের প্রশ্ন বা সে নিজে যখন যা করে বা কাউকে কিছু করতে দেখে। সকালে উঠেই বাবাকে ঘর মুছতে দেখে বললো বাবা দর (ঘ কে দ বলে ) মুছছে। দিদুন নান্না করছে।

আজ দুপুরে দিদুন ভাত খাচ্ছিলো। বাবান গিয়ে জিজ্ঞেস করলো বাত থাচ্চো?? ওর বাবা অফিস থেকে ফিরে এসে জল খাচ্ছে তখন তাকে জিজ্ঞেস করা হলো জন থাচ্চো? বাবান ল কে ন আর খ কে থ বলে। যখন বলে খুব মিষ্টি শোনায়। সন্ধ্যেবেলা আমাকে ডাকছে... আয় আয় সিরিয়াল হচ্ছে। আর একবার ডেকে নিয়ে গেলো চেয়ারে উঠবে বলে। উঠেই আমাকে বললো বতেচি। বললাম কোথায় বসেছো? বললো চেয়ারে বতেচি। নিজের থেকে কথা বলা ছাড়াও যে যা বলছে তাই শুনেও সংগে সংগে বলা হয়ে যাচ্ছে।

আইপ্যাড অপারেট করার কথা আর লিখছি না, শুধু এটুকু বলবো ওর আইপ্যাডের যেখানে যা ভিডিও আছে সেগুলো দেখতে চাইলে ও ইমিডিয়েট দেখিয়ে দেয়। কোথায় কোন ভিডিওটা আছে সব ওর নখদর্পণে। আমরা খুঁজে না পেলেও ও খুঁজে বের করে দেয়।

"আমি" কথাটা এখন মানে বুঝে বলতে পারে। স্পষ্ট করে বলে দেয় "আমি এসেছি"।

No comments:

Post a Comment