গত সপ্তাহে আমি বাথরুমে দাঁড়িয়ে মাথায় একটা হেয়ার টনিক লাগাচ্ছিলাম। বাবান বাইরে থেকে আমাকে ডাকছিল তার সংগে খেলার জন্য। অনেকবার ডেকে ডেকে অস্থির হয়ে যাচ্ছিল, আমি বললাম বাবান দাঁড়াও আর একটু, এই হয়েই এসেছে। দেখলো এভাবে ডেকে হচ্ছেনা। তখন আদর বা আবদার যাই বলি না কেনো সেই সুরে বলতে লাগলো - মানা এতোওহ! মানাআহ! এতোহ!
কিছু টুকরো স্মৃতি।
পুজোর সময় একদিন রাতে আমি ভাত খাচ্ছি, পুপুন খেয়ে উঠে মেশিনে বাসন দিচ্ছে। সেই সময় বাবান আমার সামনে এসে হ্যাঁচর প্যাঁচর করে টেবিলে ওঠার চেষ্টা করছে আর বলছে - উফ্ বসতে পাচ্চিনা। সে গলায় অদ্ভুত একটা অস্পষ্ট হতাশা! খুব মিষ্টি শোনাচ্ছিল।
লক্ষ্মী পুজোর দুদিন আগে পিসিভাই এর বাড়ি গেলাম হাসু আসবে শুনে। হাসু দাদাভাই এর ছেলে। বয়স তিন বছর একমাস। যথারীতি সেও বাবানের দাদাভাই। হাসু আসা মাত্রই বাবান ছোটরাণী ছোটরাণী করে তার কোলে ঝাঁপিয়ে চলে গেল। তার আগে সে ছোটরাণীকে একটুও পাত্তা দিচ্ছিল না।
তারপর হাসুকে দাদা দাদাভাই বলে ডাকা হলো, সে কাছে আসার পরেই তাকে আদরের ভংগিতে দুহাত বাড়িয়ে বাবু বাবু করে কাছে টেনে নিতে চাইলো। কিছুদিন আগে ওর বাবাকেও দুহাত দিয়ে দাড়িটা ধরে বাবু বাবু করে আদর করেছে। এখন বাবাকে আদর মানেই বাবু আর মাকে আদর মানেই মানা।
একদিন বিকেলে জল খাওয়াচ্ছি টিভি চালিয়ে কারণ ও add দেখলে চুপচাপ খেয়ে নেয় না হলে খুব ঝামেলা করে। একটা সিরিয়াল চলছিল ও দেখেই বললো 'মৌচাক'. তার তলায় নিচে ছোট করে আর একটা সিরিয়ালের add দিচ্ছিল। আমাকে সেটা দেখিয়ে বললো 'সখী'...
কোনো দোষ করলে যদি বকা দি, সংগে সংগে তিনিও বড়দের ভংগিতে তর্জনীটা ঠোঁটের কাছে নিয়ে গিয়ে বলেন চুপ। এখন নতুন হয়েছে - বোকোনা। আমি ছোতো।
কাল সন্ধেবেলা টিভির সামনে দাঁড়িয়ে টিভি দেখছে, বললাম অতো সামনে থেকে দেখোনা বাবা বকবে। সংগে সংগে জবাব এলো - বাবা দিল্লী দেছে। সত্যিই ওর বাবা কাল সন্ধ্যেতে দিল্লী গেছে।
No comments:
Post a Comment